বাজারে দারুচিনি কিনতে গিয়ে অনেকেই আসল ও ভালো মানের দারুচিনি নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও সব দারুচিনির গুণমান এক নয়। বিশেষ করে সিলন দারুচিনি (Ceylon cinnamon) ও ক্যাসিয়া দারুচিনি (Cassia cinnamon) দেখতে কাছাকাছি হলেও গঠন, স্বাদ ও গন্ধে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই কেনার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে সহজেই দারুচিনির ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
দারুচিনির রং দেখুন। আসল সিলন দারুচিনির রং সাধারণত হালকা বাদামি বা বাদামি-হলুদ ধরনের হয়। অন্যদিকে ক্যাসিয়া তুলনামূলকভাবে গাঢ় লালচে-বাদামি হতে পারে। তবে শুধু রং দেখে দারুচিনি আসল না নকল এমন নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। কারণ প্রজাতি, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের কারণে রঙে পার্থক্য হতে পারে।
দারুচিনির স্তর বা গঠন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি। সিলন দারুচিনি সাধারণত অনেক পাতলা কয়েকটি স্তর দিয়ে তৈরি হয় এবং এটি দেখতে সিগারেটের মতো একাধিক পাতলা স্তর পেঁচানো মনে হতে পারে। হাত দিয়ে ধরলে তুলনামূলকভাবে ভঙ্গুরও হয়। অন্যদিকে ক্যাসিয়ার ছাল সাধারণত মোটা ও শক্ত হয় এবং অনেক সময় একটি বা কয়েকটি মোটা স্তর পেঁচানো অবস্থায় দেখা যায়।
গন্ধেও পার্থক্য বোঝা যায়। ভালো মানের সিলন দারুচিনির ঘ্রাণ তুলনামূলকভাবে মৃদু, মিষ্টি ও কোমল। ক্যাসিয়ার গন্ধ সাধারণত বেশি তীব্র ও ঝাঁঝালো। তবে গন্ধ দিয়ে চেনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে অনুভূতির পার্থক্য হতে পারে, তাই অন্য বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ভালো।
স্বাদ পরীক্ষা করলে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হতে পারে। সিলন দারুচিনির স্বাদ সাধারণত হালকা মিষ্টি ও কোমল। ক্যাসিয়ার স্বাদ তুলনামূলকভাবে বেশি ঝাঁঝালো ও তীব্র হতে পারে। তবে বাজার থেকে কেনা দারুচিনি সরাসরি বেশি পরিমাণে চেখে দেখা উচিত নয়; রান্না বা পানীয়তে ব্যবহারের পর স্বাদের পার্থক্য বোঝা নিরাপদ।
গুঁড়া দারুচিনি চেনা তুলনামূলক কঠিন। আস্ত দারুচিনি কিনলে এর ছাল ও স্তর দেখে প্রজাতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু গুঁড়া অবস্থায় শুধু চোখে দেখে সিলন ও ক্যাসিয়া আলাদা করা বেশ কঠিন। তাই ভালো মানের দারুচিনি কিনতে চাইলে পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে আস্ত দারুচিনি কেনা ভালো।
দারুচিনি ভাঙার ধরনও খেয়াল করতে পারেন। পাতলা ও অনেক স্তরযুক্ত সিলন দারুচিনি তুলনামূলক সহজে ভেঙে যেতে পারে। ক্যাসিয়ার ছাল সাধারণত মোটা ও শক্ত হওয়ায় ভাঙতে বেশি চাপ প্রয়োজন হয়। তবে এটিও এককভাবে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার বিকল্প নয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিলন দারুচিনি ও ক্যাসিয়া দুটিই দারুচিনি হিসেবে ব্যবহৃত হয়; কিন্তু এগুলো একই প্রজাতির নয়। দীর্ঘদিন ও বেশি পরিমাণে দারুচিনি খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ক্যাসিয়া দারুচিনিতে কুমারিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তাই দারুচিনি কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়।
সবশেষে বলা যায়, আসল ও ভালো মানের দারুচিনি চিনতে পাতলা ও বহুস্তরযুক্ত গঠন, রং, গন্ধ, স্বাদ এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। শুধু একটি বৈশিষ্ট্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সম্ভব হলে আস্ত দারুচিনি কিনুন এবং প্যাকেটজাত হলে লেবেলে প্রজাতি ও উৎসের তথ্য দেখে নিন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!