অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকে শহরের হ্যারাপ পার্কে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ দেখা গেছে। সকালে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল দিনটি একতরফাভাবে অস্ট্রেলিয়ার দখলে যাবে। কিন্তু বিকেলে ও সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বোলাররা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৬৫ রানে আটকে রাখে। ফলে দিন শেষে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১০১ রানের লিড নিয়ে খেলা শেষ করে, যা বাংলাদেশকে এখনো ম্যাচে জীবিত রেখেছে।
সকালের সেশনে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মূল আঘাত হানেন অভিজ্ঞ পেসার মিচেল স্টার্ক, যিনি এক দুর্দান্ত নতুন বলের স্পেলে একাই ছয়টি উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন। কিন্তু বিকেলে খেলার চিত্র বদলে দেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার শরিফুল ইসলাম, যিনি অস্ট্রেলিয়ার নতুন ভেন্যুতে নিজের প্রথম টেস্টেই ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে স্টার্কের পারফরম্যান্সের সমকক্ষ হন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে দাঁড়িয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন, যিনি ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরির পর এবারও দলকে একা টেনে নিয়ে যান। দিনের শেষে ন্যাথান লায়ন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে অপরাজিত থেকে যান।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার নতুন টেস্ট ভেন্যু ম্যাকের হ্যারাপ পার্কে, যা প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন করছে। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই ম্যাচের প্রথম দিনেই মোট ১৮টি উইকেট পড়ে, যা ১৯৭৫ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এক দিনে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট পতনের ঘটনা।
টস জিতে অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সকালে উইকেটে থাকা আর্দ্রতা ও সিমের সহায়তা কাজে লাগিয়ে স্টার্ক ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশি ব্যাটারদের পরাস্ত করেন, যার ফলে দল মাত্র ৩৪ ওভারে গুটিয়ে যায়। তবে বিকেলে একই উইকেটে বল করতে নেমে শরিফুল ইসলামও একই রকম সুইং ও গতির সহায়তা পান, এবং অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। বাংলাদেশের বোলাররা মূলত সকালের ব্যাটিং ব্যর্থতার জবাব বিকেলে বল হাতে দিতে মরিয়া ছিলেন, যা তাদের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় কারণ।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটা মন্থর হলেও তুলনামূলক নিরাপদ ছিল— ম্যাট রেনশ ২২ রানে প্রথম উইকেট হিসেবে ফেরেন। এরপর দ্রুত বিদায় নেন ট্র্যাভিস হেড (৪০ রানে) ও মার্নাস লাবুশেন (৪১ রানে), মাত্র এক রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে দল চাপে পড়ে। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন এবং গ্রিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে ১১৮ রান পর্যন্ত নিয়ে যান, কিন্তু তিনি আউট হওয়ার পর থেকেই আসল ধস শুরু হয়। এরপর মাত্র ৩০ রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া চারটি উইকেট হারায়— অ্যালেক্স কেয়ারি (১৪৫), বো ওয়েবস্টার (১৪৬), অধিনায়ক প্যাট কামিন্স (১৪৬) এবং সবশেষে স্টার্ক নিজেও মাত্র ১ রান করে শরিফুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন দলীয় ১৪৮ রানে। এরপর গ্রিন ও লায়ন মিলে বাকি সময়টা সামলে নিয়ে দলকে ৮ উইকেটে ১৬৫ রান পর্যন্ত নিয়ে যান।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় গ্রিন ও লায়নের মধ্যে অবিচ্ছিন্ন জুটি টিকে ছিল, যা অস্ট্রেলিয়াকে আরও বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। তবে সামগ্রিক চিত্র বলছে, সকালে যে দাপট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া মাঠে নেমেছিল, বিকেলে তার পুরোটাই যেন উবে যায়। মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যাওয়া একটি দল যেভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দিতে পারে, তা টেস্ট ক্রিকেটের অনিশ্চয়তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল এই দিনটি।
সব মিলিয়ে, সকালে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর মনে হয়েছিল ম্যাচ একপেশে হয়ে যাবে, কিন্তু বিকেলে বোলারদের অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ এখনো ম্যাচে ভালোভাবেই টিকে আছে। মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়েও ম্যাচে টিকে থাকাটা যথেষ্ট বিরল ঘটনা, আর সেটাই এই দিনের খেলাকে করে তুলেছে বিশেষভাবে স্মরণীয়। দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়ার বাকি দুই উইকেট কত দ্রুত পড়ে এবং তাদের চূড়ান্ত লিড কত দাঁড়ায়, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের পরবর্তী গতিপথ। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ যেভাবে চাপ ধরে রেখেছে, তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে ঘুরে দাঁড়ানোর একটা বাস্তব সুযোগ তাদের সামনে থাকছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!