অনেকেরই কাজের ফাঁকে বা মনের অজান্তে আঙুল ‘মটকানো’ বা ফোটানোর অভ্যাস আছে। দীর্ঘক্ষণ টাইপ করা কিংবা একই ধরনের কাজ করতে করতে আঙুলে ক্লান্তি অনুভূত হলে অনেকেই আঙুল টেনে বা বাঁকিয়ে ‘কট’ করে শব্দ করেন। এতে সাময়িকভাবে একধরনের স্বস্তি বা হালকা অনুভূতি পাওয়া যায়। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আঙুল ফোটানোর সময় অস্থিসন্ধির ভেতরে আসলে কী ঘটে?
আঙুলের হাড়গুলো যেখানে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সেই জায়গাকে বলা হয় অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট। জয়েন্টের ভেতরে থাকে একধরনের তরল, যাকে বলা হয় সাইনোভিয়াল ফ্লুইড। এই তরল হাড়ের প্রান্তগুলোকে মসৃণভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে এবং ঘর্ষণ কমায়।
যখন আমরা আঙুল টেনে বা বাঁকিয়ে জয়েন্টে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি টান তৈরি করি, তখন অস্থিসন্ধির ভেতরের চাপের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে সাইনোভিয়াল তরলের মধ্যে দ্রবীভূত গ্যাসকে ঘিরে দ্রুত পরিবর্তন তৈরি হতে পারে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দই আমরা ‘কট’ বা ‘পট’ হিসেবে শুনি।
আগে ধারণা করা হতো, আঙুল ফোটানোর সময় জয়েন্টের ভেতরের গ্যাসের বুদ্বুদ ফেটে যাওয়ার কারণেই শব্দ হয়। তবে আধুনিক গবেষণায় বিষয়টি আরও জটিল বলে জানা গেছে। জয়েন্ট দ্রুত টানার সময় তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তনের সঙ্গে গ্যাসের গহ্বর বা ক্যাভিটি তৈরি হওয়ার ঘটনাই শব্দ তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আঙুল ফোটানোর পর সঙ্গে সঙ্গে একই জয়েন্টে আবার শব্দ করা যায় না কেন—এটিও বেশ মজার বিষয়। একটি জয়েন্ট ফোটানোর পর সেখানে আবার আগের অবস্থায় গ্যাসের ভারসাম্য তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। তাই সাধারণত কিছুক্ষণ অপেক্ষা না করলে একই আঙুল থেকে আবার ‘কট’ শব্দ পাওয়া যায় না।
অনেকে মনে করেন, নিয়মিত আঙুল ফোটালে আর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে আঙুল ফোটানোর অভ্যাস সরাসরি অস্টিওআর্থ্রাইটিস সৃষ্টি করে—এমন শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ শুধু শব্দ হওয়ার কারণে জয়েন্ট নষ্ট হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
তবে আঙুল ফোটানোর সময় যদি ব্যথা, ফোলা, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, আঙুল বাঁকাতে সমস্যা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি শুধু স্বাভাবিক ‘কট’ শব্দ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এ ধরনের উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের কারণে আঙুল ও কবজিতে অস্বস্তি হলে বারবার জোর করে আঙুল ফোটানোর পরিবর্তে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া ভালো। আঙুল ও কবজির হালকা স্ট্রেচিং, হাতের অবস্থান পরিবর্তন এবং কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়া অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে, আঙুল ফোটানোর ‘কট’ শব্দটি কোনো রহস্যময় ঘটনা নয়। মূলত জয়েন্টের ভেতরে চাপের পরিবর্তন এবং সাইনোভিয়াল তরলের গ্যাসীয় পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণভাবে ব্যথা বা অন্য কোনো উপসর্গ না থাকলে মাঝে মধ্যে আঙুল ফোটানো নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে স্বস্তি পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত জোর প্রয়োগ করে বারবার আঙুল ফোটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!