আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া তার খেলোয়াড়ি ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন। রোসারিও সেন্ট্রালের অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক তারকা এই খেলোয়াড় জানিয়েছেন, তিনি ভাবছেন আদৌ ফুটবল চালিয়ে যাবেন কিনা।

২১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থিত নেও কুইমিকা এরেনায় করিন্থিয়ান্সের বিপক্ষে কোপা লিবের্তাদোরেসের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ১-০ গোলে হেরে রোসারিও সেন্ট্রাল প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে যায়। প্রথম লেগ রোসারিওতে গোলশূন্য ড্র হয়েছিল, ফলে সিরিজটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল, কিন্তু ফিরতি লেগে দলটি প্রয়োজনীয় গোল করতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দি মারিয়া বলেন, “এটা কঠিন একটা মুহূর্ত, কারণ আমার স্বপ্ন অন্যরকম ছিল। আমার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন, খেলা চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু ফুটবল এমনই। এখন আমাকে ভাবতে হবে এবং দেখতে হবে আমি আসলে কী করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, দল গোল করার মতো যথেষ্ট সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত খেলাটা তারা খেলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে করিন্থিয়ান্সের এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পর সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েও রোসারিও সেন্ট্রাল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি, যা পরাজয়ের হতাশাকে আরও তীব্র করে তোলে।

এই মন্তব্যগুলো এমন এক সময়ে এসেছে যখন দি মারিয়া ২০২৫ সালে ইউরোপে দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ার শেষে নিজের শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রালে ফিরেছিলেন। বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি এবং জুভেন্টাসের মতো ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে খেলার পর তিনি নিজের ঘরে ফিরে আসেন মূলত একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে — কোপা লিবের্তাদোরেস জয়। কাতার বিশ্বকাপ এবং পরপর দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের মতো বিশাল অর্জন থাকা সত্ত্বেও, লাতিন আমেরিকার শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতা জয়ের স্বপ্ন তার ক্যারিয়ারে অধরাই থেকে গিয়েছিল। এবারের বিদায়ে সেই লক্ষ্য আবারও অপূর্ণ থেকে গেল, যা তাকে গভীরভাবে হতাশ করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত জুন মাসে দি মারিয়া রোসারিও সেন্ট্রালের সঙ্গে তার চুক্তি নবায়ন করেছিলেন, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। সেই সময় তার বয়স হবে প্রায় ৩৯ বছর। বর্তমানে তার বয়স ৩৮ বছর। তবে তিনি এখনো অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও প্রকাশ করেননি। তার এই মন্তব্য মূলত একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রোসারিও শহরজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রোসারিও সেন্ট্রালের সামনে অবশ্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে। ক্লাবটি বর্তমানে টর্নেও ক্লাউসুরার বার্ষিক টেবিলের ভিত্তিতে প্লেঅফ যোগ্যতা অর্জনের অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর তারা সুপারকোপা ইন্টারন্যাশিওনাল প্রতিযোগিতায় এস্তুদিয়ান্তেস দে লা প্লাতার মুখোমুখি হবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন এই ম্যাচগুলোর ফলাফল এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেবে দি মারিয়া তার প্রিয় শৈশবের ক্লাবের হয়ে আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন, নাকি এখানেই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটবে।

দি মারিয়ার এই মন্তব্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত হতাশার প্রকাশ নয়, বরং আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সম্ভাব্য সমাপ্তির ইঙ্গিতও বহন করছে। তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা জয়ী সোনালি প্রজন্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন, এবং এখন তার ক্লাব ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ও একই রকম আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভক্ত ও বিশেষজ্ঞরা এখন অপেক্ষায় আছেন, একসময়ের বিশ্বজয়ী এই তারকা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেন তা দেখার জন্য।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!