ফুটবল বিশ্বের জন্য এলো এক চমকপ্রদ খবর। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহো, যিনি প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় আগে পেশাদার ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, আবারও ফিরলেন মাঠের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধনে। ইতালির সিরি সি লিগের ক্লাব রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি, যা ফুটবল দুনিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিয়ামিতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয় ছেচল্লিশ বছর বয়সী এই সাবেক তারকাকে। সাদা রঙের জার্সিতে সোনালি রঙে লেখা তার নাম আর দশ নম্বর জার্সি হাতে নিয়ে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি, দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষের সদস্যরা। রোনালদিনহোর মাথায় ছিল সাদা টুপি, চোখে রোদচশমা—তার চিরচেনা প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠেছিল পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে।
দুই হাজার পনেরো সালে ফ্লুমিনেন্সের হয়ে সবশেষ পেশাদার ম্যাচ খেলার পর থেকে রোনালদিনহো মূলত প্রদর্শনী ম্যাচ ও কিংবদন্তিদের আয়োজনে সীমাবদ্ধ ছিলেন। এবার তিনি ফিরছেন একটি ক্লাব পরিবেশে, কোচ আন্দ্রেয়া মান্দোরলিনির অধীনে, যেখানে রাভেন্না প্রস্তুতি নিচ্ছে আসন্ন মৌসুমের জন্য। এটি ইতালিতে তার দ্বিতীয় অধ্যায়—এর আগে দুই বছরেরও বেশি সময় তিনি খেলেছেন এসি মিলানের জার্সিতে।
চুক্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছিল, তার ভূমিকা কেবল মার্কেটিং কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি তিনি সত্যিই মাঠে নামবেন। শুরুতে ক্লাবের সহ-সভাপতি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে রোনালদিনহো সিরি সিতে খেলবেন না, বয়সের কথা উল্লেখ করে আক্ষেপও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে তার অবস্থান কিছুটা নরম হয়, আর তিনি জানান যে রোনালদিনহোর মাঠে নামার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাকে একজন কালজয়ী চ্যাম্পিয়ন বলেও আখ্যা দেন তিনি, আর জানান যে এই সাক্ষরদান তাদের মতো একটি ক্লাবের জন্য অসাধারণ এক সাফল্য।
রাভেন্না ক্লাবটি পরিচালনা করছেন ইগনাজিও চিপ্রিয়ানি, যিনি বিখ্যাত চিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ড পরিবারের সদস্য। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় রোনালদিনহো ছিলেন তার আদর্শ, আর তিনি আশা করছেন এই সংযুক্তি নতুন প্রজন্মের সমর্থকদের রাভেন্নার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
উপস্থাপনার সময় রোনালদিনহো নিজেও তার উচ্ছ্বাস গোপন রাখেননি। তিনি বলেন, বল নিয়ে আবার নাচতে মুখিয়ে আছেন তিনি, আর চিপ্রিয়ানি পরিবারের সঙ্গে মিলে নতুন এক দারুণ গল্প লিখতে চান। ফুটবল তার কাছে সবসময়ই আনন্দের এক উৎস ছিল বলে জানান তিনি, আর এই একই উদ্দীপনা রাভেন্নাতেও ছড়িয়ে দিতে চান বলে জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দুই হাজার দুই সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন রোনালদিনহো। এছাড়া দুই হাজার পাঁচ সালে ব্যালন ডি’অর জেতার গৌরবও রয়েছে তার। বার্সেলোনা ও এসি মিলানের মতো ক্লাবে খেলে বিশ্বজুড়ে লাখো ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি তার জাদুকরী ফুটবল দক্ষতা দিয়ে।
বর্তমানে সিরি সি লিগের গ্রুপ বি-তে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে আছে রাভেন্না। এই মৌসুমে দলটি লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, যা তাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার প্রতিফলন। এমন প্রেক্ষাপটে রোনালদিনহোর যোগদান ক্লাবটির জন্য বাড়তি এক প্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কাছে।
যদিও এখনো নিশ্চিত নয় যে রোনালদিনহো আসলেই প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামবেন কিনা, তবে তার এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছোট্ট এক ইতালিয়ান ক্লাবের জার্সিতে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ফুটবলারকে দেখার সুযোগ—এই সম্ভাবনাই এখন উত্তেজনায় ভাসাচ্ছে ভক্তদের। সময়ই বলে দেবে, রোনালদিনহোর এই নতুন যাত্রা কতদূর গড়ায় এবং তিনি সত্যিই আবার মাঠে নেমে তার সেই পুরনো জাদু দেখাতে পারেন কিনা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!