অস্ট্রেলিয়া সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের শিবিরে হঠাৎ করেই চিন্তার মেঘ জমেছে। প্রথম টেস্টের নায়ক, সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। আজ সকালের অনুশীলন সেশনে তাকে দেখা যায়নি, আর জানা গেছে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকালের অনুশীলনে। সেখানে সামান্য চোটের শিকার হন তানজিদ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব না পেলেও পরদিন সকালে তার অনুপস্থিতি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। মূলত ঘাড়ের সমস্যার কারণেই তিনি অস্বস্তি অনুভব করছিলেন, যার জেরে দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি পর্বে তিনি একটি পুরো ব্যাটিং সেশন এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে দলের মেডিকেল বিভাগ তাকে বিস্তারিত স্ক্যানের জন্য পাঠায়, আর সেই রিপোর্টের অপেক্ষায় এখন পুরো বাংলাদেশ শিবির।
তানজিদ হাসান তামিম এই সফরে ছিলেন একেবারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ওপেনার নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই তুলে নেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। ডারউইনে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে দুইশোর কাছাকাছি বল খেলে গড়েন এক অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরি, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় স্মরণীয় এক জয়। সেই ইনিংসের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন এশিয়ার বাইরে চার বছরের মধ্যে সেঞ্চুরি করা প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার, যা তাকে এনে দেয় বিশেষ এক পরিচিতি। মূলত সাদা বলের ক্রিকেটের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত তানজিদকে লাল বলের ক্রিকেটে সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রশংসিত হয় তার এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকেতে অনুশীলন চলাকালীন সময়েই এই ঘটনার সূত্রপাত। মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তানজিদকে, যখন দলের বাকি সদস্যরা নিজ নিজ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। একই সময় আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করানো হয়, যা অনেকের কাছে ইঙ্গিতবাহী মনে হয়েছে। তানজিদ যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে না পারেন, তাহলে বিকল্প ওপেনার হিসেবে সৌম্যকেই বিবেচনায় রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত তার চোট এতটা গুরুতর মনে হচ্ছে না যে তাকে পুরো ম্যাচ থেকেই ছিটকে যেতে হবে। দলের চিকিৎসক দল সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, আর স্ক্যান রিপোর্ট আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তার খেলা নিয়ে।
এই একই অনুশীলন সেশনে আরও একটি চোটের ঘটনা ঘটে, যা দলের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম নেটে অনুশীলনের সময় একটি দ্রুতগতির ডেলিভারিতে ডান হাতে আঘাত পান। মুহূর্তের জন্য ব্যথায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন তিনি, তবে চিকিৎসা সহায়তার পরপরই আবার ব্যাট হাতে নেটে ফিরে যান। স্বস্তির বিষয়, এই আঘাত ততটা গুরুতর ছিল না।
অন্যদিকে দলের জন্য একটি ইতিবাচক খবরও এসেছে। আগের টেস্টে চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া পেসার শরিফুল ইসলাম এখন পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠেছেন এবং নেটে দীর্ঘ স্পেল করেছেন। তার প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের পেস আক্রমণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একাদশ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের কোচ। জয়ী একাদশে হুট করে পরিবর্তন আনার ব্যাপারে দলের অনাগ্রহের কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় টেস্টের আগে বাংলাদেশ শিবিরে তৈরি হয়েছে মিশ্র এক পরিস্থিতি। এক দিকে তানজিদের চোট নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে শরিফুলের ফিরে আসা এবং মুশফিকের সাময়িক আঘাত কাটিয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে দলের কম্বিনেশন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশ জটিল। এখন সবার নজর তানজিদের স্ক্যান রিপোর্টের দিকে, যার ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের একাদশের ভবিষ্যৎ এবং সিরিজের গতিপ্রকৃতি। ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন, তানজিদের চোট গুরুতর কিছু নয় এবং তিনি দ্রুতই মাঠে ফিরে আসতে পারবেন তার দলকে সিরিজ জয়ের পথে এগিয়ে নিতে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!