রোদে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে হাতের ত্বক শরীরের অন্য অংশের তুলনায় বেশি কালচে বা অসমান দেখাতে পারে। একে সাধারণভাবে ট্যান বলা হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে গেলে এমনটা হতে পারে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার না করা, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এবং ত্বকের যত্নে অনিয়মের কারণে হাতের ট্যান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

হাতের ট্যান একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং মৃদু যত্নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। ঘরে থাকা কিছু উপাদান ব্যবহার করেও ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন

অ্যালোভেরা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে এবং রোদে পোড়া বা অস্বস্তিকর ত্বকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে। হাতের ট্যানের যত্নে রাতে পরিষ্কার ত্বকে অ্যালোভেরা জেল পাতলা করে লাগানো যেতে পারে।

তাজা অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে পরিষ্কারভাবে জেল সংগ্রহ করে নিতে হবে। এরপর হাতে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে পারেন। কারও ত্বকে অ্যালোভেরায় জ্বালা বা চুলকানি হলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।

দই দিয়ে মৃদু যত্ন

দইয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিড রয়েছে, যা ত্বকের ওপরের মৃত কোষ দূর করার ক্ষেত্রে মৃদু এক্সফোলিয়েশনে সহায়তা করতে পারে। ট্যানযুক্ত ত্বকের যত্নে সাধারণ টক দই পাতলা করে হাতে লাগানো যেতে পারে।

প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ত্বকে কাটা, ঘা বা জ্বালাপোড়া থাকলে দই বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো।

ওটমিল দিয়ে মৃদু স্ক্রাব

ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষের কারণে হাত কিছুটা নিষ্প্রাণ বা রুক্ষ দেখাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওটমিল ব্যবহার করে খুব মৃদুভাবে ত্বক পরিষ্কার করা যেতে পারে।

ওটমিল সামান্য গুঁড়া করে দই বা পানি দিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর হাতে খুব হালকা হাতে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। জোরে ঘষাঘষি করা উচিত নয়। অতিরিক্ত স্ক্রাব করলে ত্বকে জ্বালা ও প্রদাহ তৈরি হয়ে উল্টো কালচে দাগ আরও স্পষ্ট হতে পারে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে নিয়মিত হন

অনেক সময় ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হলে হাতের কালচে ভাব আরও বেশি চোখে পড়ে। তাই ট্যানের যত্নের পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন হাত ধোয়ার পর একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার লাগানোর অভ্যাস করতে পারেন। শুষ্ক ত্বক হলে সিরামাইড, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার উপকারী হতে পারে।

সবচেয়ে জরুরি সানস্ক্রিন

ট্যান কমানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নতুন করে রোদে ত্বক কালচে হওয়া থেকে রক্ষা করা। আপনি যত ঘরোয়া পদ্ধতিই ব্যবহার করুন না কেন, নিয়মিত সূর্যের আলোতে হাতের ত্বক সুরক্ষিত না রাখলে ট্যান আবার ফিরে আসতে পারে।

বাইরে বের হওয়ার আগে হাতের খোলা অংশে ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে পণ্যটির নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় প্রয়োগ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সম্ভব হলে পূর্ণহাতা পোশাক বা হাত ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, লেবু, বেকিং সোডা বা শক্তিশালী স্ক্রাব দিয়ে দ্রুত ট্যান দূর করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। এগুলো ত্বকে জ্বালা, শুষ্কতা বা প্রদাহ তৈরি করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে কালচে দাগ আরও বাড়তে পারে। ট্যান ধীরে ধীরে কমে এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন ও মৃদু ত্বকের যত্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যান দীর্ঘদিন থাকলে, অস্বাভাবিকভাবে ত্বকের রং পরিবর্তন হলে বা কালচে দাগ বাড়তে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!