যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ধাতু টাংস্টেনের চাহিদা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার কিং আইল্যান্ডে অবস্থিত ডলফিন মাইন আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের সময় সক্রিয় এবং শান্তির সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই খনিকে ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
টাংস্টেন একটি অত্যন্ত শক্ত ও তাপসহনশীল ধাতু। এটি বর্ম-ভেদী গোলাবারুদ, সামরিক যানবাহনের বর্ম, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ফলে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চাওয়া দেশগুলোর কাছে এই ধাতু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার ডলফিন মাইন বিশ্বের অন্যতম বড় টাংস্টেন মজুতের স্থান হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধের প্রয়োজন বাড়লেই এই খনি চালু হয়েছে, আবার আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯১৭ সালে অস্ত্র উৎপাদনের প্রয়োজনেই প্রথমবার ডলফিন মাইন চালু করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর টাংস্টেনের বাজারে পরিবর্তন আসায় ১৯২০ সালের দিকে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে আবার খনির কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর কোরিয়া যুদ্ধ ও ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও টাংস্টেনের চাহিদার কারণে খনিটি বিভিন্ন সময়ে সক্রিয় ছিল।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ায় খনিটি কিছু সময় চালু থাকলেও ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর এটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় তিন দশক ধরে খনির গর্তে পানি জমে ছিল।
তবে ২০২২ সালে আবার খনিটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করলে বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা নতুন করে আলোচনায় আসে।
২০২৬ সালে এসে ডলফিন মাইনে টাংস্টেন উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে ভূগর্ভ থেকে প্রথম আকরিক উত্তোলনের কথা রয়েছে।
চীনের আধিপত্য কমাতে খনিজ দখলের লড়াই
টাংস্টেন উৎপাদনে বর্তমানে চীনের আধিপত্য রয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের টাংস্টেন সরবরাহ আসে দেশটি থেকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে সম্ভাব্য উত্তেজনার কারণে কৌশলগত খনিজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রও টাংস্টেনের বিকল্প উৎস খুঁজছে। দেশটি কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বড় অব্যবহৃত টাংস্টেন মজুত থেকে খনিজ উত্তোলনের জন্য বড় ধরনের চুক্তি করেছে।
প্রতিরক্ষা খাতে টাংস্টেনের ব্যবহার ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামে এই ধাতুর প্রয়োজন হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে অস্ত্রের মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় শুধু অস্ত্র নয়, অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত খনিজের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর সেই কারণেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা টাংস্টেন খনিগুলো আবার বিশ্বের নজরে আসছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!