বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ৮ নম্বর সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হাসানের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ইউনিয়নের বেলগাছী পূর্বপাড়ার বাসিন্দা হামিদুর রহমান গত ৬ আগস্ট শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু হাসান সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সাধারণ সদস্য। মূল চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি সুবিধা—বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী কার্ড ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ অন্যান্য সেবা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে না পারায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কেউ কেউ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বেলগাছী গ্রামের হাফিজুর রহমান এরশাদ অভিযোগ করেন, তাঁর মায়ের প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগকারী হামিদুর রহমানের দাবি, তাঁর স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কেন অর্থ দিতে হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন জয়লা আলাদী গ্রামের অটোচালক মো. গফুর। তাঁর ভাষ্য, স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য পরিষদে গেলে ‘অফিস খরচ’ হিসেবে ৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় তিনি কাঙ্ক্ষিত সেবা পাননি বলে দাবি করেন

এ ছাড়া বেলগাছী গ্রামের বিধবা নারী আনেয়ারা বেওয়ার কাছেও ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, অর্থ দিতে না পারায় এখনো তিনি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং পরিষদে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে, ইউনিয়নের মনতাজ শেখ রাস্তা সংস্কারের কাজের পারিশ্রমিক নিয়েও অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, জয়লা মধ্যপাড়া এলাকায় পুকুরপাড়ের রাস্তা সংস্কারের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হাসানের সঙ্গে তাঁর প্রায় ৭০ হাজার টাকার চুক্তি হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তাঁর পাওনা পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু হাসান। তিনি অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, টাকার বিনিময়ে তিনি কোনো সরকারি সেবা দেন না। বরং বিনামূল্যেই মানুষকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!