লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম শুধু খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ায় না, এতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের জন্যও উপকারী। বিশেষ করে লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামে থাকা ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে ক্যাপসিকাম নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে ক্যাপসিকাম খেলেই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়। বরং বিভিন্ন রঙের শাকসবজি ও ফল নিয়মিত খাওয়ার মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

লাল ক্যাপসিকামে কেন বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট?

ক্যাপসিকামের রং পরিবর্তনের সঙ্গে এর পুষ্টি উপাদানেও কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কাঁচা সবুজ ক্যাপসিকাম পাকলে সাধারণত লাল বা হলুদ রং ধারণ করে। লাল ক্যাপসিকামে ভিটামিন সি ছাড়াও বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান পাওয়া যায়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র‍্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ভূমিকা রাখে। শরীরে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থাকলে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হলুদ ক্যাপসিকামেও রয়েছে উপকারী উপাদান

হলুদ ক্যাপসিকামও ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এতে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন ক্যারোটিনয়েড থাকে। নিয়মিত সবজি খাওয়ার অংশ হিসেবে হলুদ ক্যাপসিকাম শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করতে পারে।

ক্যাপসিকামকে সালাদ, রান্না, স্যুপ, নুডলস কিংবা বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়। অতিরিক্ত রান্না না করে হালকা সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করলে এর কিছু পুষ্টি উপাদান ভালোভাবে ধরে রাখা সম্ভব।

ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে খাবারের সম্পর্ক

ক্যান্সার একটি জটিল রোগ। এর পেছনে বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অ্যালকোহল গ্রহণ, পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ এবং খাদ্যাভ্যাসসহ অনেক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।

কোনো একটি খাবারকে ক্যান্সার প্রতিরোধের একক উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। তবে শাকসবজি, ফল, পূর্ণশস্য, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামকে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে।

কীভাবে খাবেন?

লাল ও হলুদ ক্যাপসিকাম কাঁচা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। আবার সামান্য তেলে অন্যান্য সবজির সঙ্গে রান্না করেও খেতে পারেন। স্যান্ডউইচ, পাস্তা, নুডলস, স্যুপ ও বিভিন্ন ভাজি বা তরকারিতেও ক্যাপসিকাম যোগ করা যায়।

তবে শুধু ক্যাপসিকামের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন রঙের সবজি ও ফল খাবারের তালিকায় রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকাও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!