দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ–ঢাকা–জয়দেবপুর (গাজীপুর) রুটে চালু করা হবে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক রেল বা কমিউটার ট্রেন। প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
আধুনিক এই প্রকল্পটি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে চলা ডিজেলচালিত ট্রেনের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বৈদ্যুতিক রেল চালু হলে এই রুটের যাত্রীরা আরও দ্রুত, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন সুবিধা পাবেন।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দৈনিক যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। বর্তমানে যেখানে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে, তা বেড়ে ৮ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি হতে পারে।
এ ছাড়া ট্রেন চলাচলের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ৬৫টি ট্রেন ট্রিপের পরিবর্তে তা বাড়িয়ে ২৩৫টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে বা পিক আওয়ারে প্রায় ১৫ মিনিট পরপর ট্রেন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
নতুন বৈদ্যুতিক রেল চালু হলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং ঢাকা অঞ্চলের সড়ক পরিবহনের ওপর চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময় ও ব্যয় সাশ্রয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় ভ্রমণ সময় প্রায় ১৮ শতাংশ কমতে পারে। পাশাপাশি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় প্রায় ৩৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
পরিবেশগত দিক থেকেও বৈদ্যুতিক রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও যানজট মোকাবিলায় আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। বৈদ্যুতিক কমিউটার ট্রেন চালু হলে তা শুধু যাতায়াত সহজ করবে না, বরং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকেও দেশকে এগিয়ে নেবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!