জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে অংশ নেওয়া দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের লিঙ্গ নির্ধারণসংক্রান্ত মেডিকেল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের অর্জিত পদক বাতিল করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। একই সঙ্গে নারী বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেডারেশন জানিয়েছে, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিয়ম ও মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট জান্নাত বেগম এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট কবিতা রায়ের লিঙ্গ নির্ধারণ নিয়ে নিজ নিজ সংস্থার অভিযোগের পর বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২৬ সালের ১১ মে তাদের কার্যক্রম শেষ হয়। পরে ১৬ মে মেডিকেল বোর্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জান্নাত বেগম (২৮) ও কবিতা রায় (১৯)-এর হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় 46, XY DSD (Differences of Sex Development) শনাক্ত হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের মতামত অনুযায়ী, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিবেচনায় তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, উভয় অ্যাথলেটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস এবং ইনগুইনাল ক্যানেলে গোনাড থাকার বিষয়টি পাওয়া গেছে।

মেডিকেল পরীক্ষায় জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯.৬৬ nmol/L এবং কবিতা রায়ের ১৬.৫০ nmol/L। ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা প্রয়োজন। উভয় অ্যাথলেট সেই শর্ত পূরণ করতে পারেননি।

ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জান্নাত বেগমের জ্যাভলিন থ্রো ও ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে অর্জিত দুটি জাতীয় রেকর্ডসহ ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪×১০০ মিটার রিলে ইভেন্টে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া পদকগুলো নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন জানিয়েছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নিয়মনীতি অনুসরণ, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!