জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ ছয় নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সংগঠনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, অতীত আন্দোলনে ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই ছাত্রদল নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে সংগঠনের ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সারাদেশে সাংগঠনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান এবং দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

বৈঠকের পর ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে—এমন আভাস পেয়েছেন সংগঠনের নেতারা। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মধ্যরাতের ফেসবুক পোস্টেও বিদায়ের ইঙ্গিত দেখা গেছে। তিনি লিখেছেন, “অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।” পাশাপাশি নতুন কমিটিকে সবাই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বর্তমান নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এবং তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনের জন্য শুভকামনাও জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদলের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক নেতা দাবি করেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নেতাদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত ও গোপন মতামতও নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের প্যানেল পরাজয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয় ২০২৪ সালের ১ মার্চ। সে সময় সভাপতি হিসেবে রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাছির উদ্দীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে ওই কমিটির ঘোষণা দেন।

সংগঠনের একাধিক নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অন্তত ১০ জনের বেশি নেতা আগ্রহী। এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।

ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ছিল খুবই ইতিবাচক। তিনি বর্তমান নেতৃত্বের কাজের মূল্যায়ন করেছেন এবং একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের জন্যও সংগঠনকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।”

বৈঠক ঘিরে ছাত্রদলের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। এখন সংগঠনের নেতাকর্মীদের নজর কেন্দ্রীয় কমিটির পরবর্তী ঘোষণার দিকে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!