দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। আগামীকাল, ১৩ আগস্ট থেকে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া বনাম বাংলাদেশের দুই ম্যাচের নির্মা ইন্স্যুরেন্স নর্দার্ন টেস্ট সিরিজ। এটি হবে ২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে প্রথম টেস্ট, আর বাংলাদেশের জন্যও এটি দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সফর। প্রথম টেস্ট শেষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়, ২২ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। এটাও হবে ওই মাঠে প্রথম টেস্ট ম্যাচ।

এই সিরিজ শুধু নতুন ভেন্যুর কারণে নয়, অস্ট্রেলিয়ার আসন্ন ব্যস্ত মৌসুমের শুরু হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই টেস্ট দিয়ে অস্ট্রেলিয়া শুরু করছে টানা ১২ মাসের এক দীর্ঘ যাত্রা, যেখানে তারা মোট ২০টি টেস্ট খেলবে। এর মধ্যে থাকবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও ইংল্যান্ড সফরও। তাই বাংলাদেশ সিরিজকে অনেকটা প্রস্তুতিমূলক মঞ্চ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এই সিরিজে নামছে প্রায় পূর্ণশক্তির দল নিয়ে। দলে আছেন স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হ্যাজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, নাথান লায়ন, স্টিভ স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, জেক ওয়েদারাল্ড ও বো ওয়েবস্টারের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা।

একটা মজার তথ্য হলো, হ্যাজেলউড এখন ৩০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র পাঁচ উইকেট দূরে দাঁড়িয়ে — এই কীর্তি অর্জন করলে তিনি হবেন অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখানো খেলোয়াড়। সদ্য অ্যাশেজ জয়ের রেশ ধরে দলটি বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় মাঠে নামছে।

বাংলাদেশের জন্য সফরের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে এক ইনিংস ও ৩৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা, দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে। এর ওপর যোগ হয়েছে চোটের দুশ্চিন্তাও — গতিময় পেসার নাহিদ রানা চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন, যা বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে বেশ দুর্বল করে দিয়েছে।

তবে দলটি একেবারে অভিজ্ঞতাশূন্য নয়। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের দলে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন স্পিন আক্রমণ। পেস বিভাগে বৈচিত্র্য আনার দায়িত্বে থাকবেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন।

মুশফিকুর রহিম ও মোমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও দলে আছেন, যারা আগে কঠিন বিদেশি কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন। বিশেষভাবে নজরে থাকবেন মিরাজ — তিনি প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করে সফর শুরু করেছেন এবং গত দুই বছরে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারিদের একজন তিনি।
পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক ফর্ম বিচারে বিশেষজ্ঞরা অস্ট্রেলিয়াকেই স্পষ্ট ফেভারিট মানছেন। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসেও অস্ট্রেলিয়া অনেক এগিয়ে — এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্টের মধ্যে পাঁচটিতেই জিতেছে তারা, বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে, মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে।

ডারউইনের কন্ডিশনও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচের বিপর্যয় ও চোটের কারণে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এমনিতেই কিছুটা ম্লান, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার হাতে রয়েছে চার পেসারের শক্তিশালী সমন্বয়, যা ঘরের মাঠের কন্ডিশনে বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারে।

তবু ক্রিকেট বরাবরই অনিশ্চয়তার খেলা। নতুন ভেন্যু, ভিন্ন আবহাওয়া আর চাপমুক্ত পরিবেশে বাংলাদেশ যদি নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে পারে, তাহলে চমক দেখানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আপাতত ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে আগামীকাল ডারউইনের প্রথম বলের দিকে, যেখানে শুরু হবে এক নতুন ইতিহাসের।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!