যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করে জানিয়ে দিয়েছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদ থেকে সরানো হলে তা হবে বিশ্ব ফুটবলের জন্য এক “মারাত্মক ভুল”। সোমবার রাতে নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়া হলে ফিফা মারাত্মক ভুল করবে।
তিনি ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বেই সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর হিসেবে আয়োজিত হয়েছে, আর সতর্ক করেন যে ইনফান্তিনো চলে গেলে এই আসর আর কখনো এত সফল বা লাভজনক হবে না।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্ব ফুটবলের তিনটি সবচেয়ে প্রভাবশালী মহাদেশীয় সংস্থা—ইউরোপের উয়েফা, উত্তর-মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের কনকাকাফ এবং এশিয়ার এএফসি—ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে।
সোমবারই এই তিন সংস্থা একটি যৌথ খোলা চিঠি প্রকাশ করে, যেখানে তারা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ তোলে। চিঠিতে বলা হয়, নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এবং তা ধরে রাখা বা দাবি করার বিষয় নয়। কনফেডারেশনগুলোর মতে, ইনফান্তিনো তার দায়িত্বের সীমা লঙ্ঘন করে নিজেকে সমষ্টিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন।
এই বিরোধের মূলে রয়েছে ইনফান্তিনোর একটি ব্যর্থ পরিকল্পনা, যা “ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ” (FFE) নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবের আওতায় ফিফার সব প্রতিযোগিতা—বিশ্বকাপসহ—পরিচালনার জন্য একটি নতুন কোম্পানি গঠনের কথা ছিল, যার প্রায় ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বেসরকারি বিনিয়োগ সংস্থার কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। কনফেডারেশনগুলোর অভিযোগ, এই প্রস্তাব অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে এবং সদস্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল, যাতে যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ সীমিত থাকে। এই ঘটনার জেরে উয়েফা ফিফার সব প্রতিযোগিতা বর্জনের হুমকিও দিয়েছে, এমনকি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একটি প্রতিবেদন, যেখানে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো যদি পদে থেকে যান, তাহলে তিন কনফেডারেশনের মধ্যে পৃথক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে ফিফা নিজেও শনিবার এক বিবৃতিতে পাল্টা দাবি করে, সংস্থা এবং ইনফান্তিনোকে দুর্বল করার একটি সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চলছে।
এই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টিও। গত বছর ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার প্রথম “পিস প্রাইজ” প্রদান করেছিলেন। এছাড়া ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা সংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে একটি জবাবদিহিতা বিষয়ক সংগঠনের পক্ষ থেকে, যারা ফিফার নীতিনৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানিকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যিনি আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারেন।
সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থন ফিফার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকটকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে, এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনে গভীর অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে ফিফার প্রতিক্রিয়া এবং কনফেডারেশনগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে এই সংকটের চূড়ান্ত পরিণতি।
তথ্যসূত্র : ESPN
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!