বয়স কম হলেও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি এড়ানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষের প্রায় ১২ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত বলে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা। তরুণ বয়সে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘যুব সমাজে উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকি ও করণীয়: বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) সহযোগিতা করে। বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস’ সোসাইটি, প্ল্যাটফরম ডক্টরস ফাউন্ডেশন, ইটস হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন ও গিভ বাংলাদেশ ছিল সহ-আয়োজক।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দায়ী। এসব রোগের কারণে হওয়া মৃত্যুর ১৯ শতাংশকে অকালমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০ রোগের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ।
বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে ২০১৮-এর তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী মানুষের প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। তাঁদের মতে, তরুণ বয়সে এই রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে অসংক্রামক রোগের চাপ আরও বাড়তে পারে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, উচ্চ রক্তচাপজনিত অকালমৃত্যু কমাতে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য টেকসই অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্টস স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক ডা. মলয় কান্তি মৃধা বলেন, গবেষণাভিত্তিক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
জিএইচএআইয়ের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস স্বাস্থ্য বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সহসভাপতি ও ডেইলি সানের ডেপুটি এডিটর মোহাম্মদ আল আমিন। তাঁর মতে, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কনসালট্যান্ট আমিনুল ইসলাম সুজন। প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যুব সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!