পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও আয়করসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার ও নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা, আয়কর, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করে অভিন্ন নীতি গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তারা ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির অন্তরালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্র পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল বলেন, শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসার ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. আমিন পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। যেকোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ মঞ্চের সভাপতি শাহাদাত ফরাজি সাকিব পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে নিয়মিত নির্বাচন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিক, লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট এএইচএম ফারুক পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাগড়াছড়ি জেলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি আবদুল মজিদ প্রত্যাহার করা সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন এবং সীমান্ত সড়ক নির্মাণের দাবি জানান। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দীন বাজারফান্ড এলাকায় বন্ধ থাকা ব্যাংক ঋণ পুনরায় চালুর দাবি জানান। ঋণ সুবিধা বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নাগরিক পরিষদের সহ-সভাপতি এম. রুহুল আমিন পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন এবং সব জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বান্দরবান জেলা নাগরিক পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ আয়কর ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করে স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজু ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বাতিলের দাবি জানান। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ও আইনগত কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পিসিএনপি লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কার্যকর নীতি গ্রহণ এবং বিতর্কিত ভূমি কমিশন বাতিলের দাবি জানান। ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমেদ নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবি জানান। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সব জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ থেকে বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সব জনগোষ্ঠীর সমান নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অভিন্ন নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!