টাঙ্গাইলে বহুল আলোচিত এক ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে ভুক্তভোগী তরুণীর মাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সখীপুর উপজেলার মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. ইসমাইল, মজিবুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান, বাসাইল উপজেলার ছামাদ মিয়ার ছেলে শাহিনুর রহমান এবং ভুক্তভোগী তরুণীর মা।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমারাও খান দিপু জানান, ২০২০ সালের ১৮ মে রাতে সখীপুরের এক তরুণীকে কবিরাজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে করে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে একটি দোকানঘরে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর ওই তরুণীকে একটি বাড়ির সামনে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী নিজেই সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা করে তিনজনকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভুক্তভোগী তরুণীর মাকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকেও আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উপস্থিত আসামিদের আদালত কক্ষে আনা হয়। পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ মামলার রায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে সহযোগিতার অভিযোগে পরিবারের সদস্যের বিরুদ্ধে সাজা হওয়ায় বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচনায় এসেছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান। তারা বলেন, দীর্ঘ চার বছরের বেশি সময় ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর অবশেষে আদালত ন্যায়বিচার দিয়েছেন।

এদিকে নারী অধিকারকর্মীদের মতে, ধর্ষণ মামলায় দ্রুত তদন্ত, সাক্ষী সুরক্ষা এবং বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো জরুরি। তারা বলেন, এ ধরনের মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরাধ প্রবণতা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এ রায় ঘোষণার পর স্থানীয় আইনজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!