রদ্রিগো দে পলের গোল এবং মেসিকে নিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্ত ইন্টার মায়ামি ও মন্তেরের ম্যাচে দেখা গেছে। মন্তেরের মাঠ নু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লিগস কাপের এই ম্যাচে দে পল দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। দূর থেকে জোরালো এক শটে বল প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের নিচের বাম কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন তিনি, যা মায়ামিকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়।
তবে গোলের চেয়েও বেশি মানুষের নজর কেড়েছে তাঁর উদযাপনের ধরন। গোল করার সঙ্গে সঙ্গেই দে পল নিজের জার্সি খুলে ফেলেন, আর তখন প্রকাশ পায় এক আবেগঘন দৃশ্য—তাঁর নিজের জার্সির নিচে আগে থেকেই পরা ছিল লিওনেল মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। অর্থাৎ ম্যাচ শুরুর আগেই দে পল পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন, নিজের জার্সির নিচে মেসির জার্সি পরে মাঠে নামবেন, যাতে গোল পেলে সেটি খুলে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন।
এই বিশেষ উদযাপনটি শুধু মেসির প্রতিই নয়, বরং মেসি ও তাঁর পুরো পরিবারের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। কারণ এই ম্যাচের ঠিক আগের রাতেই, শুক্রবার রাতে, লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি দীর্ঘ অসুস্থতার পর মারা যান। এই গভীর শোকের মধ্যে মেসি নিজে ম্যাচে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেননি। দে পল আর মেসি বহু বছর ধরে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলেছেন এবং সম্প্রতি একসঙ্গে বিশ্বকাপ ফাইনালেও লড়েছেন। এই দীর্ঘ বন্ধুত্ব ও সতীর্থতার জায়গা থেকেই দে পল চেয়েছিলেন, মেসি মাঠে না থাকলেও যেন তিনি অনুভব করেন যে তাঁর সতীর্থরা তাঁর ও তাঁর পরিবারের পাশে আছেন।
গোল করার পর দে পল দৌড়ে উদযাপন করতে করতে নিজের জার্সিটি মাথার ওপর দিয়ে খুলে ফেলেন। ঠিক তখনই ক্যামেরা ও দর্শকদের সামনে উন্মোচিত হয় নিচে পরে থাকা মেসির জার্সি। মুহূর্তের মধ্যেই এই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। অনেকেই একে বন্ধুত্ব ও মানবিকতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে মাঠের প্রতিযোগিতার বাইরেও একে অপরের প্রতি যত্ন ও সহমর্মিতার প্রকাশ দেখা গেছে।
লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি আর্জেন্টিনার রোসারিও শহরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও নিজ বাড়ির মধ্যে সময় কাটাচ্ছিলেন, স্ত্রী সেলিয়া ও সন্তানদের সঙ্গে থেকে। তিনি শুধু মেসির বাবাই ছিলেন না, দীর্ঘদিন ধরে ছেলের এজেন্ট ও প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন। মেসির ছোটবেলায় বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে সুযোগ পাওয়ার পেছনেও হোর্হের বড় ভূমিকা ছিল। ছেলের ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপে তিনি নেপথ্যে থেকে সহায়তা করে গেছেন।
হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবরে ফুটবল বিশ্ব থেকে একের পর এক শোকবার্তা আসতে থাকে। বার্সেলোনা ক্লাব এক বিবৃতিতে হোর্হে মেসিকে ধন্যবাদ জানায়, কারণ তিনিই মেসির শৈশবকালীন প্রতিভা ক্লাবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। মেসির শৈশবের ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলে, হোর্হের নিরন্তর সঙ্গ ও নেপথ্যের নেতৃত্ব লিওর প্রতিটি সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এছাড়া রাফায়েল নাদালের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরাও মেসির প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ইউনিসেফ, যেখানে মেসি শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করেন, তারাও শোকবার্তা প্রকাশ করে জানায় যে হোর্হে মেসি শিশুদের অধিকার রক্ষায়ও নিবেদিত ছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে দে পলের গোল উদযাপন যেন হয়ে ওঠে গোটা দলের পক্ষ থেকে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি একটি নীরব সহমর্মিতার বার্তা। মাঠে উপস্থিত না থাকলেও মেসি যেন এই মুহূর্তে তাঁর সতীর্থদের হৃদয়ে ও উদযাপনে ছিলেন।
দে পলের এই কাজ প্রমাণ করে যে ফুটবল মাঠের প্রতিযোগিতার বাইরেও খেলোয়াড়দের মধ্যে গভীর মানবিক সম্পর্ক ও একে অপরের প্রতি যত্নের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র : Yahoo Sports
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!