আগামী পাঁচ বছরে দেশের চিকিৎসা খাতে সরকারি বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের জন্য সরকার কাজ করছে। একটি উন্নত, মানবিক ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যটি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাজেট বক্তৃতায় সরকার স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ ধাপে ধাপে বাড়িয়ে পাঁচ বছরের মধ্যে জিডিপির ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানিয়েছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ০২ শতাংশ।
ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব সংগঠনটির দীর্ঘদিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ড্যাবের সদস্যরা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং দেশ গঠনের নানা কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে দুর্যোগের সময়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণকে সামনে রেখে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়ন, মানবিকতা ও সাম্যের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসা অবকাঠামো, চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!