পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) জন্য ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এসব বাস পরিচালনার জন্য চার্জিং স্টেশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব বাস কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকারি অর্থায়নে বিআরটিসির জন্য ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাসের মধ্যে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাসও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা হবে। ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় কমার পাশাপাশি বায়ুদূষণও কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এর আগে বিআরটিসির জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমবে। প্রথম ধাপে এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বিভাগীয় শহরের আন্তঃনগর রুটে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হলে বিআরটিসির ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ তৈরি হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিজস্ব অর্থায়নে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়েছে।
এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে বিআরটিসির জন্য ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ৫০ কোটি টাকা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও স্পেয়ার পার্টস কিনতে ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়নে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু করা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং সরকারের সবুজ পরিবহন করিডোর বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!