ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বড় বিপদে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি উঠছে চারদিক থেকে। এই কঠিন সময়ে তিনি মরক্কোর সমর্থন পেতে চাইছেন। আর তার বিনিময়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মরক্কোকে। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমস এই খবর প্রকাশ করেছে।

দ্য টাইমসের সাংবাদিক মার্টিন জিগলার লিখেছেন, ইনফান্তিনো গোপনে মরক্কোর কর্মকর্তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে কাসাব্লাঙ্কার নতুন হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামটি এখনও নির্মাণাধীন।

এটি শেষ হলে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধরবে, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত করবে। আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে ফাইনাল হবে স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের বিখ্যাত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়ামে, কিন্তু এখন সেই জায়গায় কাসাব্লাঙ্কার নাম উঠে আসছে।

ইনফান্তিনো কেন এত চাপে পড়লেন? মূল কারণ, তিনি বিশ্বকাপের একটা অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটা পরিকল্পনা করেছিলেন। এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রচণ্ড সমালোচনা হওয়ায় সেটা বাতিল করতে হয়েছে।

এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে সমর্থন কমতে শুরু করে। উয়েফা, অর্থাৎ ইউরোপের ফুটবল সংস্থা, এই ব্যর্থ পরিকল্পনার প্রতিবাদে ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের মতো দেশের ফুটবল সংস্থাও তার পাশ থেকে সরে গেছে।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে তার পক্ষে কিছু বলেনি। সৌদি আরব ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে, তাই তাদের সমর্থন ইনফান্তিনোর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে সাবেক পর্তুগিজ ফুটবল তারকা লুইস ফিগো প্রকাশ্যেই ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। তার অভিযোগ, ইনফান্তিনো ফিফার সুনাম নষ্ট করছেন।

চাপ সামলাতে ইনফান্তিনো বুধবার রাবাতে ফিফার আফ্রিকা আঞ্চলিক কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকের লক্ষ্য ছিল নিজের অবস্থান রক্ষা করা এবং ২০২৭ সালের নির্বাচনের আগে সমর্থন জোগাড় করা।

মরক্কো ২০১৬ সাল থেকে ইনফান্তিনোর অন্যতম বড় সমর্থক দেশ। তারা স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এই বিশ্বকাপ হবে বিশ্বকাপের শতবার্ষিকী, তাই এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মরক্কো আগে থেকেই চাইছিল তাদের নতুন স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ হোক, আর ইনফান্তিনো এখন সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছেন নিজের অবস্থান শক্ত করতে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি আসলে বাধ্যতামূলক নয়। ফিফায় নতুন সভাপতি এলে এই সিদ্ধান্ত সহজেই বদলে যেতে পারে। তাই মরক্কোর জন্য এই প্রতিশ্রুতি কতটা নিশ্চিত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে ফিফা এই পুরো প্রতিবেদনটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তারা সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেছে, ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে সভাপতি কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।

তারা জানিয়েছে, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ফিফা আরেকটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, বুধবারের বৈঠকটি ছিল “গঠনমূলক ও ইতিবাচক”, এবং সেখানে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে। মরক্কোর ফুটবল সংস্থা এখনও এই বিষয়ে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি।

মোটকথা, বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে এই বিতর্ক ফিফার ভেতরের রাজনীতি এবং ইনফান্তিনোর নড়বড়ে অবস্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনগুলোতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

তথ্যসূত্র : The Times, Yahoo Sports

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!