জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্বৈরাচারবিরোধী জনক্ষোভের বিস্ফোরণ। তিনি বলেন, এই আন্দোলন হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি; বরং দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা ঘটনার ধারাবাহিকতায় মানুষের ক্ষোভ একপর্যায়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতোই ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, এসব আন্দোলন দেশের ইতিহাসে জনগণের অধিকার আদায়ের ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে তৎকালীন সরকারের সময় নির্যাতন, গুম, হত্যা, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মতো বিভিন্ন ঘটনার কারণে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সেটিই একসময় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরণের রূপ নেয়। তিনি এই ঘটনাকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ-তরুণীরা যেভাবে রাজপথে নেমে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আন্দোলনের সময় যারা প্রাণ হারিয়েছেন কিংবা স্থায়ীভাবে আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান উন্নয়নই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খোরশেদ আলম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম আহসানুল আজিজ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানাসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!