বাংলাদেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ (রুফটপ সোলার) ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের বড় ২৩৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৬৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে দেশে রুফটপ সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪১৮ মেগাওয়াট দেখানো হলেও আইইইএফএর হিসাব অনুযায়ী বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট স্থাপনাগুলো যুক্ত করলে মোট সক্ষমতা ১ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।

আইইইএফএ বলছে, দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রিড বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প উদ্যোক্তারা বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে সৌরবিদ্যুতের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেন্দ্রীভূত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থা বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ও দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় সাশ্রয়ে সহায়তা করতে পারে।

আইইইএফএ জানিয়েছে, কৃষি খাতেও সৌরবিদ্যুতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের অনেক সেচ পাম্প ডিজেলচালিত। এসব পাম্পের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সৌরবিদ্যুৎচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা গেলে বছরে প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ডিজেল আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে রুফটপ সোলার খাতের সম্প্রসারণে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌর যন্ত্রাংশ আমদানিতে কর বৃদ্ধি, গ্রিড সংযোগ পেতে দীর্ঘ সময় লাগা এবং নেট মিটারিং ব্যবস্থার ধীরগতি।

আইইইএফএর তথ্য অনুযায়ী, আগে সৌর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক সুবিধা থাকলেও সাম্প্রতিক কর পরিবর্তনের কারণে শিল্প খাতের রুফটপ সোলার প্রকল্পের কার্যকর করহার বেড়েছে। বর্তমানে ভ্যাট ও অগ্রিম করসহ করের হার ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থাটি রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রসারে কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌর যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার, অনলাইনে গ্রিড সংযোগ আবেদন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ও স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানো।

আইইইএফএ বলছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে টেকসই ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!