ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে উয়েফাসহ একাধিক ফুটবল কনফেডারেশন তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সমর্থনও হারাতে বসেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করেও সফল হননি ইনফান্তিনো। সোমবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ফিফা প্রধান ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করছেন ৫৬ বছর বয়সী এই সুইস আইনজীবী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে রুবিওর সঙ্গে তার কোনো ফোনালাপ হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈশ্বিক জনসম্পর্কবিষয়ক সচিব ডিলান জনসন।
এদিকে ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ফিফার বিকল্প হিসেবে নতুন বৈশ্বিক ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ‘গ্লোবাল নেশন্স লিগ’ নামে একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করছে, যা বিশ্বকাপের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে।
একসময় মনে করা হচ্ছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের পর আগামী বছরের মার্চে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে টানা চতুর্থ মেয়াদে জয় পাওয়া ইনফান্তিনোর জন্য সহজ হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলে গেছে।
বিশ্বকাপসহ বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর থেকেই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা।
উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)-এর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও তার প্রতি আগের সমর্থন পুনর্বিবেচনা করছে।
ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে আগামী মেয়াদের সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন ইনফান্তিনো।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু দেশের সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশের সমর্থন হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ফিফা সভাপতি।
আগামী মার্চের নির্বাচন সামনে রেখে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে তাকে নতুন করে সমর্থন আদায়ের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!