রংপুরে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। এবার রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওন (৯ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এ মৃত্যুর ঘটনায় গত ছয় মাসে রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, সময়মতো এমআর (মিজলস-রুবেলা) টিকা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে রমেক হাসপাতালের হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। নিহত শাওন নীলফামারী সদর উপজেলার বাসিন্দা সুইট মিয়ার ছেলে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ মার্চ থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ হাজার ১৫০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২ হাজার ৯৮ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শাওনকে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা এবং হামের অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন করে ২০ জন হামের উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে লালমনিরহাট জেনারেল হাসপাতালে একজন, নীলফামারীতে পাঁচজন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া এ রোগের সাধারণ উপসর্গ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. ওয়াজেদ আলী বলেন, নতুন করে আরও এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিভাগের সব হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ের এমআর টিকা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে দানা, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, নয় মাস বয়সী শিশুটিকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীদের জন্য পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক ও চিকিৎসাসামগ্রীর কোনো ঘাটতি নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া রোগের বিস্তার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!