নওগাঁর মহাদেবপুরে একটি অটো চাউলকলের বয়লারের গরম ছাই ও বিষাক্ত পানিতে পড়ে রিয়াল হোসেন (১২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর চাউলকলের গরম পানির খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। একই স্থানে এর আগেও একই ধরনের দুর্ঘটনায় এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ফলে পুরোনো সেই ঘটনাকে ঘিরে আবারও এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কুঞ্জবন বাজারে অবস্থিত তানজিদা অটো চাউলকলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিয়াল হোসেন উপজেলার খোর্দকালনা গ্রামের বড় ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা বাচ্চু মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়ালের বাবা-মা চাকরির কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে সে তার দাদির সঙ্গে কুঞ্জবন বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে মাইকিং করে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান।
সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কয়েকজন কুঞ্জবন বাজারে অবস্থিত তানজিদা অটো চাউলকলের বয়লারের গরম পানির খালের পাশে একটি শিশুর স্যান্ডেল ভাসতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৮টার দিকে বয়লারের গরম পানির খাল থেকে রিয়ালের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মহাদেবপুর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার সকালে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরে দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তানজিদা অটো চাউলকলের বয়লারের গরম ছাই ও গরম পানির অংশ যথাযথভাবে সুরক্ষিত না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
উল্লেখ্য, এটি ওই চাউলকলকে ঘিরে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা নয়। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ মার্চ একই চাউলকলের বয়লারের আগুনযুক্ত ছাইয়ে পড়ে দগ্ধ হন মহাদেবপুর উপজেলার সাংবাদিক গৌতম কুমার মহন্তের মেয়ে গৌরী রানী মহন্ত। প্রায় ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ওই বছরের ৪ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে চাউলকলগুলোর বয়লার, গরম পানির খাল ও ছাই সংরক্ষণের স্থানগুলোতে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!