সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটির কাজ শেষ হলে প্রস্তাবটি দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, নবম বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারের কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নে অযথা বিলম্ব করা হবে না। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তিনি বলেন, কাজ শেষ হলেই এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ প্রণয়নে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে সরকারের আলোচনাও গুরুত্ব পেয়েছে। গত জুলাই মাসে ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে তারা সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়। তবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, নবম বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে আইএমএফের ঋণের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না তিনি। তবে সরকারের কাজ এগিয়ে চলছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আইএমএফ নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে কোনো আপত্তি জানায়নি। সংস্থাটি কেবল জানতে চেয়েছে, অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহে সরকারের অর্থায়নের পরিকল্পনা কী এবং রাজস্ব আহরণ কীভাবে বাড়ানো হবে। সরকারও এ বিষয়ে রাজস্ব সংগ্রহ জোরদারের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে প্রায় এক যুগ পর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নতুন বেতনকাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এ কারণে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সচিব পর্যায়ের কমিটি বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করেছে। সর্বশেষ আলোচনায় ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা হবে। বাজেটে বেতন ও ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত অর্থ সংযোজন করা হয়েছে, যা নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই নবম বেতনকাঠামো এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রস্তাব অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারি হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ আরও স্পষ্ট হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!