নওগাঁর বদলগাছীতে এক ব্যক্তিকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে কোমরে পাঁচটি ইট বেঁধে ক্যানেলে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন মর্তুজা (৪৫) নামে ওই ব্যক্তি। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাতাজি রোড এলাকায় নুরজাহান নূরানী হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসার পাশের একটি ক্যানেলে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মর্তুজা উপজেলার হাড়িপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা মর্তুজার হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার কোমরে পাঁচটি ইট বেঁধে ক্যানেলে ফেলে রেখে যায়। ক্যানেলের পানিতে পড়ে থাকা অবস্থায় তিনি প্রাণ বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছিলেন এবং শব্দ করার চেষ্টা করেন।

ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলের পাশেই থাকা একটি ওয়েল্ডিং দোকানের মালিক রুবেল অস্বাভাবিক শব্দ শুনে টর্চের আলো ফেলেন। আলোয় ক্যানেলের ভেতরে একজন মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি দ্রুত স্থানীয়দের খবর দেন। পরে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মর্তুজাকে উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় মর্তুজাকে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বদলগাছী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা কী কারণে এমন নৃশংস হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সময়মতো রুবেল বিষয়টি টের না পেলে মর্তুজাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো না। তাদের দ্রুত পদক্ষেপই একটি প্রাণ বাঁচিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!