জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন, হারানো কার্ড পুনরায় উত্তোলন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সেবার জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই ফি তালিকা অনুযায়ী, এনআইডির দৃশ্যমান তথ্য একাধিকবার সংশোধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভ্যাটসহ ৪৬০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হবে। আর হারানো এনআইডি কার্ড জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় তুলতে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা ফি দিতে হবে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. শাহ আলমের স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে নতুন ফি কাঠামোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব নির্বাচন কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কার্যালয়কে নতুন হার অনুযায়ী সেবা প্রদান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনআইডির দৃশ্যমান তথ্য—যেমন নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা বা ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য প্রথমবার আবেদন করলে ভ্যাটসহ ফি হবে ২৩০ টাকা। একই তথ্য দ্বিতীয়বার সংশোধনের জন্য ৩৪৫ টাকা এবং তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতিবার আবেদন করতে ৪৬০ টাকা দিতে হবে।

অন্যদিকে, এনআইডির তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমবার আবেদন করতে লাগবে ১১৫ টাকা, দ্বিতীয়বার ২৩০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৩৪৫ টাকা। এসব ফি’র সঙ্গে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নতুন ফি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণ আবেদনের মাধ্যমে প্রথমবার কার্ড তুলতে ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৫০০ টাকা দিতে হবে। তবে দ্রুত বা জরুরি ভিত্তিতে কার্ড তুলতে চাইলে প্রথমবার ৩০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৫০০ টাকা এবং তৃতীয় বা পরবর্তী প্রতিবার ১ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ভ্যাট যুক্ত হবে।

এনআইডি সেবার পাশাপাশি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী দলিল-দস্তাবেজ পরিদর্শন বা কপি সংগ্রহের জন্য ১০০ টাকা, ভোটার তালিকার প্রত্যয়নকৃত (সার্টিফায়েড) কপি সংগ্রহে ১০০ টাকা এবং ভোটার তালিকা পরিদর্শনে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে।

নতুন তালিকায় ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি সংগ্রহের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন, সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড বা পৌর ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডি নিতে ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য এনআইডি তথ্য যাচাই ও তথ্য সরবরাহ সেবার নতুন ফিও নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। সরকারি সংস্থা বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ লাখ টাকা, বার্ষিক নবায়ন বা সাব-ইউজার চার্জ ১ লাখ টাকা এবং প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো অতিরিক্ত সুবিধা নিতে চায়, তাহলে প্রতিটি তথ্য যাচাইয়ের জন্য ২ টাকা পরিশোধ করতে হবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ক্ষেত্রে এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রথম ৭০ জন সাব-ইউজারের প্রত্যেকের জন্য ৪ হাজার টাকা এবং ৭০ জনের বেশি প্রতিটি অতিরিক্ত সাব-ইউজারের জন্য ২ হাজার টাকা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবার এনআইডি তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৫ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ফি কাঠামোর মাধ্যমে এনআইডি সেবা আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়াও আরও স্বচ্ছ ও নির্ধারিত নিয়মের আওতায় আসবে।

সূত্র:নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপসচিব স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ ও প্রকাশিত নতুন ফি তালিকা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!