ভারতের আইআইটি কানপুরের সাইবার নিরাপত্তা কোর্সে ভর্তি হতে না পেরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট হ্যাক করা এক শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ওই শিক্ষার্থীর কারিগরি দক্ষতা যাচাই করে পরবর্তী ভর্তি চক্রে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর ওই শিক্ষার্থী একটি বার্তা রেখে যান। সেখানে লেখা ছিল, ‘ওয়েবসাইট হ্যাক করা হয়েছে। আমার শুধু একটি ন্যায্য সুযোগ দরকার।’
চলতি সপ্তাহে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আইআইটি কানপুরের নতুন চালু হওয়া স্নাতক পর্যায়ের সাইবার নিরাপত্তা কোর্সে আবেদন করেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর তিনি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেন।
ওই শিক্ষার্থীর দাবি, তার উদ্দেশ্য কোনো ক্ষতি করা ছিল না। নিজের সাইবার নিরাপত্তা দক্ষতা দেখানোর জন্যই তিনি এমনটি করেছেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও রেডিটে ওয়েবসাইটে প্রবেশের কিছু স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি প্রদান এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে নিজের কাজের নমুনা জমা দেওয়ার পরও তাকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রাখা হয়নি। এমনকি ভর্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আয়োজিত হ্যাকাথনেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।
আইআইটি কানপুরের পরিচালক মনিন্দ্র আগরওয়াল ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেন, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। তাই এখন তাকে সরাসরি ভর্তি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তাকে ক্যাম্পাসে ডেকে এনে একটি আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার মাধ্যমে তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা যাচাই করা হবে। পরীক্ষায় যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে পরবর্তী ভর্তি চক্রে তাকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
আইআইটি কানপুরের পরিচালক আরও নিশ্চিত করেন, শিক্ষার্থীটি আইআইটি কানপুর ও আইআইটি মাদ্রাজের ওয়েবসাইটের কিছু অংশে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করা যে আইনবিরোধী, সে বিষয়েও তাকে সতর্ক করা হবে।
আইআইটি কানপুরের এক কর্মকর্তা জানান, শুরুতে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে তার দাবির সত্যতা যাচাই এবং কারিগরি দক্ষতা মূল্যায়নের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আইআইটি কানপুর এর আগেও তরুণ সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের উৎসাহিত করেছে। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের (সিবিএসই) অনলাইন উত্তরপত্র মূল্যায়ন পোর্টালের নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করা এক তরুণকে প্রতিষ্ঠানটির সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা কেন্দ্র ‘সি থ্রি আই হাব’-এ কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!