স্মার্টফোন চার্জ দিতে চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক নয়, শুধু কথা বললেই ব্যাটারিতে জমা হবে বিদ্যুৎ—শুনতে যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির গল্প। তবে এমন সম্ভাবনা নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে কয়েক বছর ধরে চলছে বিস্তর গবেষণা। বিজ্ঞানীদের দাবি, মানুষের কণ্ঠস্বর, শব্দের কম্পন এবং আশপাশের যান্ত্রিক কম্পন থেকে ক্ষুদ্র পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি ধীরে ধীরে আরও উন্নত হচ্ছে। যদিও বর্তমান অবস্থায় এটি দিয়ে একটি স্মার্টফোন চার্জ করা সম্ভব নয়, তবুও ভবিষ্যতের শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ট্রাইবোইলেকট্রিক ন্যানোজেনারেটর (Triboelectric Nanogenerator বা TENG) নামে একটি প্রযুক্তি। এটি দুই ধরনের পদার্থের ঘর্ষণ বা কম্পনের মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করতে পারে। মানুষের কথা বলা, চোয়ালের নড়াচড়া কিংবা শব্দের কম্পন থেকেও এই প্রযুক্তি বিদ্যুৎ তৈরি করতে সক্ষম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সংকেত ব্যবহার করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ এবং সেন্সর চালানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে এই প্রযুক্তি মূলত অতিক্ষুদ্র শক্তিচালিত সেন্সর, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, স্মার্ট ওয়্যারেবল ডিভাইস এবং মানব-যন্ত্র যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য হিসেবে পরীক্ষাধীন রয়েছে। এমনকি কণ্ঠস্বর বা মুখের নড়াচড়া শনাক্ত করে স্মার্টফোন স্পর্শ না করেই কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা কার্যকর করার পরীক্ষাও সফল হয়েছে। তবে এটি স্মার্টফোনের পুরো ব্যাটারি চার্জ করার প্রযুক্তি নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “কথা বললেই স্মার্টফোন চার্জ হবে”—এমন দাবি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি বাস্তবতার তুলনায় অনেক বেশি সরলীকৃত। বাস্তবে মানুষের কণ্ঠস্বর থেকে উৎপন্ন শক্তির পরিমাণ অত্যন্ত কম। তাই বর্তমান প্রযুক্তিতে শুধুমাত্র কথা বলে একটি স্মার্টফোনের ব্যাটারি চার্জ করা সম্ভব নয়। গবেষণার লক্ষ্য মূলত অতিক্ষুদ্র শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কম বিদ্যুৎ খরচের ইলেকট্রনিক সিস্টেম পরিচালনা করা।
গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে ব্যাটারির দক্ষতা, শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং ন্যানোজেনারেটরের সক্ষমতা আরও উন্নত হলে স্মার্টফোনের কিছু অংশে সহায়ক বিদ্যুৎ সরবরাহে এ ধরনের প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ ব্যবহারকারীর হাতে এমন প্রযুক্তি পৌঁছাতে এখনো সময় লাগবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ভবিষ্যতের স্মার্টফোনে একাধিক বিকল্প শক্তির উৎস একসঙ্গে ব্যবহার হতে পারে। সূর্যের আলো, শরীরের তাপ, হাঁটার সময় তৈরি হওয়া কম্পন কিংবা কণ্ঠস্বর—এসব ক্ষুদ্র শক্তিকে একত্র করে ব্যাটারির ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে। তবে এখনই “কথা বললেই ফোন চার্জ হবে”—এমন ধারণাকে বাস্তব প্রযুক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
প্রযুক্তির অগ্রগতির ইতিহাস বলছে, একসময় ওয়্যারলেস চার্জিং কিংবা ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনও অনেকের কাছে কল্পনার বিষয় ছিল। তাই কণ্ঠস্বর বা পরিবেশের শক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতের ডিভাইস আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না গবেষকেরা। তবে সেটি বাস্তবে আসতে হলে আরও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, উন্নত উপকরণ এবং কার্যকর শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!