টুথপেস্টের পর এবার বহুল ব্যবহৃত ভোজ্য সয়াবিন তেলেও মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গবেষকদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা বিভিন্ন পণ্যে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের নমুনা বিশ্লেষণ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও সব নমুনায় সমান মাত্রায় এই কণা পাওয়া যায়নি, তবুও ভোজ্য তেলের মতো বহুল ব্যবহৃত খাদ্যপণ্যে প্লাস্টিকের উপস্থিতি গবেষকদের উদ্বিগ্ন করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, মাইক্রোপ্লাস্টিক বলতে সাধারণত পাঁচ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণাকে বোঝায়। এসব কণা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং কিংবা পরিবহনের বিভিন্ন ধাপে খাদ্যে মিশে যেতে পারে। প্লাস্টিক বোতল, পাইপলাইন, যন্ত্রপাতি কিংবা প্যাকেজিং উপকরণ থেকেও এ ধরনের দূষণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, বর্তমানে শুধু সয়াবিন তেল নয়; বোতলজাত পানি, সামুদ্রিক মাছ, লবণ, মধু, চা-ব্যাগ, দুধ, কোমল পানীয় এবং এমনকি টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা হয়েছে। ফলে মানুষের অজান্তেই প্রতিদিন অল্প অল্প করে প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশ করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে জমতে থাকলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় প্রদাহ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, কোষের ক্ষতি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্যাকেজিং ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, নিরাপদ প্লাস্টিক ব্যবহার এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হলে এ ধরনের দূষণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এদিকে খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত বাজার তদারকি, আধুনিক পরীক্ষাগারে খাদ্যপণ্যের মান যাচাই এবং ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর মানদণ্ড অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বিশ্বজুড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ এখন একটি বড় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিদিন ব্যবহৃত খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যে এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি কমিয়ে আনতে সরকার, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র:DBC News-এর প্রতিবেদন

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!