বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও নির্মাতা দেব আনন্দ এবং অভিনেত্রী কল্পনা কার্তিকের একমাত্র ছেলে সুনীল আনন্দ আর নেই। ৭০ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সুনীল আনন্দের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেব আনন্দের নাতনি ও তার ভাইজি জিনা নারাং। পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠিন সময়ে সবার কাছে সহমর্মিতা প্রকাশের পাশাপাশি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৯৫৬ সালে জন্ম নেওয়া সুনীল আনন্দ ছিলেন হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী পরিবার আনন্দ পরিবারের উত্তরসূরি। ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। উচ্চশিক্ষা শেষে অভিনয় ও চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাবার প্রতিষ্ঠিত নবকেতন ফিল্মস-এর সঙ্গে যুক্ত হন। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রযোজনার কাজেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আনন্দ অউর আনন্দ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে নায়ক হিসেবে অভিষেক হয় সুনীল আনন্দের। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন তার বাবা দেব আনন্দ। যদিও অভিনয়ে তিনি বাবার মতো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি, তবু চলচ্চিত্র জগত থেকে নিজেকে কখনো দূরে সরিয়ে নেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি মূলত চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা এবং পারিবারিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নবকেতন ফিল্মসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

ভারতীয় চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি দেব আনন্দের উত্তরাধিকার সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সুনীল আনন্দ। বাবার মৃত্যুর পর তার নির্মিত চলচ্চিত্র, সৃজনশীল কাজ এবং নবকেতন ফিল্মসের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নীরবে কাজ করে গেছেন তিনি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কম থাকলেও বলিউডের ইতিহাস ও পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষায় তার অবদান চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের কাছে স্বীকৃত।

সুনীল আনন্দের মৃত্যু এমন এক সময় এলো, যখন ভারতীয় সিনেমার স্বর্ণযুগের অনেক স্মৃতিই ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছে। তার প্রয়াণে শুধু আনন্দ পরিবারই নয়, দেব আনন্দের অসংখ্য ভক্তও শোকাহত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রপ্রেমী, সহকর্মী ও ভক্তরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

দেব আনন্দ ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘এভারগ্রিন স্টার’ হিসেবে পরিচিত। তার উত্তরসূরি হিসেবে সুনীল আনন্দ অভিনয়, নির্মাণ এবং পারিবারিক চলচ্চিত্র ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও তিনি সবসময় প্রচারের আলোয় ছিলেন না, তবুও ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!