ধনী-গরিব, মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণি ও বয়সের মানুষের মধ্যেই বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রায় পাঁচ হাজার তালাক কার্যকর হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটির বেশি সংসার ভেঙেছে।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯৮৯টি তালাক কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ হাজার ২৯৭টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ হাজার ৬৯২টি তালাক হয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তালাকের আবেদন করার ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি। পাঁচ মাসে কার্যকর হওয়া তালাকের মধ্যে ৩ হাজার ৫৮৩টি আবেদন করেছেন নারী, যা মোট তালাকের প্রায় ৭২ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। মনের অমিল, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, ভরণপোষণের সমস্যা, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, পারস্পরিক সম্মানের অভাব এবং সহনশীলতার ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে সামনে আসছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী বলেন, বর্তমানে নারীদের শিক্ষার হার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে অন্যায় বা নির্যাতনের শিকার হলে অনেক নারী আগের মতো নীরবে সহ্য করছেন না। অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রেও পারিবারিক জটিলতা ও নতুন সম্পর্কের বিষয়গুলো বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৫ এলাকায় সবচেয়ে বেশি তালাকের আবেদন জমা পড়েছে। কারওয়ান বাজার, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে পাঁচ মাসে ৬৬৬টি আবেদন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭২টি আবেদন করেছেন নারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালাকের আবেদনে অনেক সময় ‘মনের অমিল’ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সমস্যা, মানসিক চাপ ও সম্পর্কের অবনতির মতো বিষয় থাকে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ বলেন, সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও অসম্মান এখনও রয়েছে। পাশাপাশি নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন।

তবে বিবাহ বিচ্ছেদের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সন্তানদের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালাকের পর অনেক শিশুর মধ্যে হতাশা, একাকিত্ব, পড়াশোনায় অমনোযোগ এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দাম্পত্য সমস্যা সমাধানে পারিবারিক কাউন্সেলিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে অনেক বিচ্ছেদ ঠেকানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র: NTV BD

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!