ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সম্প্রতি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, একজন ফুটবলার মৌসুমে দলগত কোনো শিরোপা না জিতেও এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারেন। সংগঠকরা জানিয়েছেন, দলের অর্জিত ট্রফির চেয়ে মাঠে খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ১৯৫৬ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়জন খেলোয়াড় এই বিরল কীর্তি গড়েছেন।
১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউজ সেই বছর কোনো দলগত শিরোপা ছাড়াই এই সম্মান অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে ডেনিস ল এবং ১৯৭০ সালে গার্ড মুলার একই কীর্তি গড়েন, যদিও মুলার সেবার বিশ্বকাপে ১০ গোল করলেও তার দল তৃতীয় স্থানের বেশি এগোতে পারেনি। ১৯৭৮ সালে কেভিন কিগান এবং ২০০০ সালে লুইস ফিগোও ট্রফিহীন মৌসুমে এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান জিততে সক্ষম হন। সবশেষ এবং সবচেয়ে আলোচিত নাম— ২০১৩ সালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিগোর পর রোনালদোর এই কীর্তির মধ্যে ব্যবধান ছিল ১৩ বছর, আর রোনালদোর ২০১৩ সালের কীর্তির পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি সংস্করণ পার হয়ে গেছে যেখানে কেউ এমনটা করতে পারেননি।
সংগঠকদের এই বিবৃতি সামনে এসেছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর ঘোষণার প্রাক্কালে। ২০২৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে লন্ডনে অক্টোবর মাসে।
এই প্রসঙ্গ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, কারণ লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে উভয়েই দুর্দান্ত ব্যক্তিগত মৌসুম কাটালেও কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি। মেসি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলেন, আট ম্যাচে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করেন, কিন্তু ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে এমবাপ্পে বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতেন ১০ গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে, ক্লাবের হয়েও ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেন, কিন্তু ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয়। ফলে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন উঠছে— ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে দলগত সাফল্যের বিপরীতে।
ব্যালন ডি’অরের ভোটিং পদ্ধতিতে সাংবাদিকদের একটি প্যানেল খেলোয়াড়দের সারা মৌসুমের পারফরম্যান্স বিচার করে। ২০২২ সাল থেকে এই মূল্যায়নের ভিত্তি ক্যালেন্ডার বছরের বদলে পুরো মৌসুম (আগস্ট থেকে জুলাই) করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে গোলসংখ্যা, ম্যাচের প্রভাব, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভূমিকা— সবকিছু মিলিয়ে বিচার করা হয়, যেখানে দলগত ট্রফি একটি ফ্যাক্টর হলেও একমাত্র নির্ণায়ক নয়।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অরের এই স্পষ্টীকরণ প্রমাণ করে যে ফুটবলে ব্যক্তিগত মহিমা কখনো কখনো দলগত সাফল্যকেও ছাপিয়ে যেতে পারে— যদিও ইতিহাস বলছে, এমন ঘটনা সত্যিই বিরল।
তথ্যসূত্র : Ballondor.com
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!