ইতালির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার আন্দ্রেয়া পিরলোর ইতালি জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ শেষ মুহূর্তে থমকে গেছে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FIGC) একটি রুশ বেটিং কোম্পানির সঙ্গে পিরলোর বাণিজ্যিক সম্পর্ক খতিয়ে দেখার জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে। পরবর্তীতে পিরলো নিজেই জানিয়ে দেন যে তিনি আর এই পদের প্রার্থী নন। তিনি বলেছেন, গতরাতে তিনি জানতে পেরেছেন যে ইতালি জাতীয় দলের প্রধান কোচ পদের জন্য তিনি আর প্রার্থী নন।
এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন আন্দ্রেয়া পিরলো (২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী, বর্তমানে দুবাইভিত্তিক ক্লাব ইউনাইটেড এফসির কোচ), FIGC প্রেসিডেন্ট জিওভান্নি মালাগো, ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি ও পরামর্শক লিওনার্দো। এছাড়া ইতালির রাজনীতিবিদরাও এতে যুক্ত হয়েছেন — ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পিনা পিচিয়েরনো এবং সেনেটের প্রধান ইগনাজিও লা রুসা এই নিয়োগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান।
মূল কারণ পিরলোর একটি রুশ বেটিং ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা। ২০২৫ সাল থেকে পিরলো ফনবেট নামের একটি রুশ স্পোর্টসবুকের গ্লোবাল অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইতালি-রাশিয়া সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ রয়ে গেছে, আর সম্প্রতি এই ব্র্যান্ডের প্রচারণার কাজে পিরলো মস্কো সফর করেন, যা জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার সঙ্গে বেমানান বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া মালাগো পিরলো ও ফনবেটের সম্পর্কের প্রকৃতি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান, বিশেষত কারণ পিরলো বর্তমানে যে দুবাই ক্লাবে কোচিং করছেন, তার মালিক সের্গেই লোমাকিনের এই কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য আর্থিক স্বার্থ রয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ইতালি, বিশেষত রোমে অবস্থিত ফেডারেশনের সদর দপ্তর। তবে পিরলোর বিতর্কিত মস্কো সফরও এই ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত শুক্রবার (দুই দিন আগে) গণমাধ্যমে প্রথম খবর আসে যে পিরলো ইতালির নতুন কোচ হতে যাচ্ছেন, সাবেক সতীর্থ জেন্নারো গাত্তুসোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে, যিনি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর এপ্রিলে পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর গত ৪৮ ঘণ্টায় নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি পাল্টে যায়, এবং আজ (২৭ জুলাই, সোমবার) পিরলো নিজেই নিশ্চিত করেন যে তিনি আর প্রার্থী নন।
গাত্তুসোর পদত্যাগের পর ম্যানচেস্টার সিটির পেপ গার্ডিওয়ালা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পিরলো এই পদের শীর্ষ প্রার্থী হয়ে ওঠেন। কিন্তু বিতর্ক বাড়তে থাকায় ইতালির ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থা কোদাকোন্সও তার নিয়োগ ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয়, জুয়া সংক্রান্ত স্পনসরশিপ নিষিদ্ধকরণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে। চাপের মুখে অবশেষে পিরলো নীরবতা ভেঙে বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, তার নাম নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা তিনি গভীর তিক্ততার সঙ্গে অনুসরণ করেছেন, এবং প্রতিষ্ঠান ও ফেডারেশনের প্রতি শ্রদ্ধাবশত এতদিন চুপ ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে তিনি সবসময় যে দেশে কাজ করেছেন তার আইন মেনে চলেছেন, এবং এই পেশাদার চুক্তিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া তার প্রতি অন্যায্য।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিরলোকে যোগ্য মনে করা হলেও রুশ বেটিং ব্র্যান্ডের সঙ্গে তার সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত এই নিয়োগ ভেস্তে দেয় ।
তথ্যসূত্র : Football Italia
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!