পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তিনি বলেন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার (২৬ জুলাই) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অ্যাক্ট পাস হয়েছে, যা দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর ভাষায়, বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও জরুরি। এজন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করা এবং শিল্প খাতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিন সকালে সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর, বগাদানা ও মতিগঞ্জ ইউনিয়নে তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন পরিবেশমন্ত্রী। পরে বিকেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষ এবং মনগাজী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি।
বিকেলে ফেনী জেলা কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। এ সময় তিনি সোনাগাজী অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মুসাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ, লালপুল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং রামতাঘাট উন্নয়ন তার অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে। আগামী একনেক সভায় মুসাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণ প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা কৃষক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন খোকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর, সদস্য সচিব নিজান উদ্দিন এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশীদ আলম ভূঁইয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
তবে মন্ত্রীর কর্মসংস্থানসংক্রান্ত বক্তব্য একটি ঘোষণামূলক প্রতিশ্রুতি। কী সময়ের মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়নি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!