টানা বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বন্যার প্রকৃত প্রভাব বাজারে পড়ার আগেই সবজি, মাছ, মুরগি, ডিম, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা এবং পটল ৬০ টাকা কেজি দরে। তবে বেগুনের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১১০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজরের দাম ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একই সময়ে কাঁচামরিচের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকায় উঠেছে।

ডিম ও মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা ১০ দিন আগেও ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে কেজিতে ২০০ থেকে ২১০ টাকা হয়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে মাছের দামও বেড়েছে। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ, যা কয়েক দিন আগেও ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা ও চাষের চিংড়ির দামও কেজিতে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

রাজধানীর কাওরান বাজারে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি না থাকলেও বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। তার অভিযোগ, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করছেন।

নয়াবাজারে বাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা বলেন, এক ঘণ্টা ধরে বাজার ঘুরেও সাধ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বন্যায় মাঠের কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর প্রভাব এত দ্রুত বাজারে পড়ার কথা নয়। তার মতে, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে মূল্য কারসাজি করছে এবং বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

অন্যদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কেউ অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভোক্তার স্বার্থে এ অভিযান চলবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!