প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড Samsung। এর ফলে দেশের ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাতে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় উৎপাদন সহযোগী ফেয়ার ইলেকট্রনিকস জানিয়েছে, আগামী বছর থেকেই দেশেই তৈরি Samsung স্মার্টফোন আবার বাজারে পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে Samsung-এর উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়াকে স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন সংযোজন শুরু করা প্রথম বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ছিল Samsung। ২০১৮ সালে দেশেই তৈরি প্রথম Samsung স্মার্টফোন বাজারে আনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছিল।
বর্তমানে নরসিংদীর শিবপুরে অবস্থিত কারখানায় Samsung ব্র্যান্ডের রেফ্রিজারেটর উৎপাদন শুরু হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ওয়াশিং মেশিন উৎপাদন শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের শুরুতে এয়ার কন্ডিশনার, টেলিভিশন এবং স্মার্টফোন উৎপাদনও চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম বুধবার (২২ জুলাই) ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের কারখানা পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন Samsung Bangladesh-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাং এবং ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব।
ফেয়ার গ্রুপ জানায়, তারা ২০১৪ সালে বাংলাদেশে Samsung-এর আনুষ্ঠানিক পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০১৭ সালে স্থানীয় উৎপাদন কারখানা স্থাপন এবং ২০১৮ সালে দেশেই Samsung স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন খাতে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু স্মার্টফোন উৎপাদনেই বিনিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা।
প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় বছরে প্রায় ২৫ লাখ স্মার্টফোন উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে উৎপাদন পুনরায় শুরু হলেও প্রথম বছরেই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ফেয়ার ইলেকট্রনিকস। বাজারের চাহিদা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
ফেয়ার গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন জানান, ২০২৩ সালে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর ব্যবসায়িক পরিবেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এর প্রভাবেই ২০২৪ সালের মাঝামাঝি থেকে Samsung স্মার্টফোন উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ৪জি থেকে ৫জি প্রযুক্তিতে রূপান্তরের কারণে উৎপাদন লাইনে নতুন যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে।
এদিকে কারখানা পরিদর্শনের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জিজুন কিম বলেন, ফেয়ার ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ভবিষ্যতে দেশটি আঞ্চলিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আলম আল মাহবুব বলেন, স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে গ্রে মার্কেট এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোন আমদানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে বৈধ উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে, সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
Samsung Bangladesh-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাংমিন জাংও বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক মান বজায় রেখে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদন আরও সম্প্রসারণে কাজ করে যাবে Samsung।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি দেশের ইলেকট্রনিকস শিল্পেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা কমবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশীয় প্রযুক্তি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
সূত্র: ফেয়ার ইলেকট্রনিকস
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!