জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়ন হলে নির্দিষ্ট শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়েই জন্মতারিখ সংশোধনের সুযোগ মিলবে। পাশাপাশি অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং এনআইডি নবায়নের সময় পারিবারিক তথ্য সংযুক্ত করার মতো নতুন সুবিধাও চালু হতে পারে।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার, সিনিয়র সচিব এবং কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিনিয়র সচিব জানান, এনআইডি সেবাকে আরও নাগরিকবান্ধব করতে বিদ্যমান কিছু প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভোটার এলাকা বা স্থানান্তর (মাইগ্রেশন) সম্পূর্ণ অনলাইনে করার ব্যবস্থা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারী অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং এ সেবার জন্য নির্ধারিত সংশোধনী ফি পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য নতুন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফি নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এনআইডি নবায়ন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের বিধান রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, নবায়নের জন্য আলাদা একটি নির্ধারিত ফরম থাকবে, যেখানে আবেদনকারীকে নিজের পরিবারের সদস্যদের তথ্য বা একটি পারিবারিক তথ্যছক (ফ্যামিলি ট্রি) প্রদান করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের মতে, এতে পারিবারিক তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই সেবার ক্ষেত্রেও একটি নির্ধারিত ফি রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ে দেওয়ার পরিকল্পনা। বর্তমানে এ ধরনের আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হলেও নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জেএসসি, এসএসসি বা সমমানের স্বীকৃত পাবলিক পরীক্ষার সনদে থাকা জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্ভরতা কমবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদেশে থাকা নাগরিকদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে দুই ধাপের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদন জমা দেওয়া ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং তদন্ত শেষ হলে নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি আপলোড করা হবে এবং তদন্তে তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সেখান থেকেই নিবন্ধনের অনুমোদন দিতে পারবে। ফলে একটি ধাপ কমে যাবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে এনআইডি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা এবং দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সেবার মান আরও উন্নত হবে।

তবে এসব প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন (ইসি)

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!