দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) কে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাসে রূপ দিতে প্রায় ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, আবাসন সংকট এবং অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা দূর করতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ।
‘ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নতুন একাডেমিক ভবন, আধুনিক গবেষণাগার, শিক্ষার্থী হোস্টেল, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং উন্নত ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন প্রকল্পে আধুনিক স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সোলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সবুজায়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্মার্ট শিক্ষা-চিকিৎসা ক্যাম্পাসে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই হবে না, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। নতুন একাডেমিক ভবন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত আবাসন সুবিধা ভবিষ্যতের দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত অবকাঠামোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং দারিদ্র্য হ্রাসেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিত করে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
প্রায় আট দশক ধরে দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত অনেক ভবন এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা, গবেষণা এবং চিকিৎসাসেবায় নতুন যুগের সূচনা হবে। পাশাপাশি রোগী, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের জন্য আরও নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!