বাংলাদেশের জাতীয় মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ধরনের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় এসব পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২১ জুলাই) বিএসটিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআইর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেস-এর আমের আচারে নির্ধারিত মানের তুলনায় অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। একইভাবে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর বেলিসিমো রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের মাত্রা বাংলাদেশ মানদণ্ডের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে অলিভ বাংলাদেশ-এর লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, মোরিংগা+মাচা ফোমিং মিল্ক ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

এ ছাড়া ডেকো ফুডস-এর ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাঙ্গো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানদণ্ডের তুলনায় কম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন করে লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বাজার থেকে পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসটিআইর মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, মানসম্মত পণ্য পাওয়া ভোক্তাদের অধিকার। তিনি ক্রেতাদের পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইর মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ভেজাল বা মানচিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে জানাতে আহ্বান জানান।

এদিকে, বিএসটিআইর নির্দেশনার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বেলিসিমো রোটোন্ডো আইসক্রিমের সংশ্লিষ্ট ব্যাচের নমুনা পুনরায় পরীক্ষার জন্য তারা গত ২ জুলাই আবেদন করেছে। বর্তমানে পুনঃপরীক্ষার জন্য নতুন নমুনা প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা বিএসটিআইর নির্ধারিত মান ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!