জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্রের পুনরায় পথচলা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে এবং একটি স্বৈরাচারী শাসনের কবল থেকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পটভূমি একদিনে তৈরি হয়নি। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপট থেকেই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জনগণের মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে বহু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ম, অন্যায় ও দমন-পীড়নের কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠে, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের রূপ নেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পটভূমিও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফল। তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও চট্টগ্রামের ওয়াসিফের শাহাদাতের পর আন্দোলন নতুন গতি লাভ করে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহসানুল আজিজ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোরশেদ আলম, যুগ্মসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান এবং কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ।

বক্তারা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং মানবিক রাষ্ট্র গঠনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে শহীদদের অবদান যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!