কিশোর-কিশোরীদের অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমাতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী কিশোরদের জন্য রাতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন না কিশোররা। একই সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করা এবং একের পর এক ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার ফিচারও সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কিশোরদের পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করা। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে নির্দিষ্ট সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে এই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারবেন।
দেশটির প্রযুক্তিমন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, রাতের এই বিধিনিষেধ চালু হলে কিশোররা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাবে। এর ফলে তারা স্কুল ও কলেজের পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দিতে পারবে এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়বে।
সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের কারণে কিশোরদের ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি এবং মানসিক চাপ বাড়তে পারে। গবেষকদের মতে, রাতের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি করা হলে ঘুমের অভ্যাস উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এই নিয়মের খসড়া চলতি বছরের শেষ দিকে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের বসন্ত থেকে এটি কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশই এখন নতুন আইন ও নীতিমালা তৈরির দিকে এগোচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সেই নিয়ম বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
এদিকে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দেশে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে মানসিক ক্ষতির অভিযোগ নিয়ে গুগল ও টিকটকের বিরুদ্ধে করা একটি বড় মামলার সমাধান হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, অভিভাবকদের সচেতনতা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তরুণ প্রজন্মের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া যেমন সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অতিরিক্ত ব্যবহার নতুন ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!