অতিবৃষ্টি, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণের পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য, ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনার নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। কোরআন ও হাদিসে দুর্যোগের সময় আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, পূর্ববর্তী বহু জাতির কাছে রাসুল পাঠানোর পর তাদের ওপর দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও নানা বিপদ-মুসিবত নাজিল করা হয়েছিল, যাতে তারা বিনীত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। কিন্তু তারা উপদেশ গ্রহণ না করে অবাধ্যতায় অটল থাকায় শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদের পাকড়াও করেন। (সুরা আনআম: ৪২-৪৪)

ইসলামী গবেষকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জন্য আত্মসমালোচনা ও আল্লাহর দিকে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাই এমন সময়ে বেশি বেশি ইস্তিগফার, তাওবা ও দোয়া করা উচিত।

বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে যে দোয়া
হাদিসে এসেছে, বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়তেন—

اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লা তাকতুলনা বিগাদাবিকা, ওয়ালা তুহলিকনা বিআযাবিকা, ওয়া আফিনা কাবলা জালিকা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনার গজব দিয়ে আমাদের ধ্বংস করবেন না, আপনার শাস্তি দিয়ে আমাদের নিশ্চিহ্ন করবেন না; এর আগেই আমাদের ক্ষমা ও নিরাপত্তা দান করুন।’

— সুনানে তিরমিজি

অতিবৃষ্টির সময় যে দোয়া
যখন অতিবৃষ্টি মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াত, তখন মহানবী (সা.) এই দোয়া করতেন—

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا، وَلَا عَلَيْنَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশের (জনবসতির বাইরে) এলাকায় বৃষ্টি বর্ষণ করুন।’

— সহিহ বুখারি: ৯৩৩

ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুর্যোগের সময় শুধু দোয়া করাই নয়, নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ইসলামের শিক্ষা। আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করাও একজন মুসলমানের দায়িত্ব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!