বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় রান্নাঘরের শুকনো খাবার দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় চিনি দলা পাকিয়ে যায়, লবণ গলে যায়, মসলায় ছত্রাক পড়ে কিংবা বিস্কুট ও স্ন্যাকসের মুচমুচে ভাব নষ্ট হয়ে যায়। সামান্য অসাবধানতায় এসব খাবারের স্বাদ, গন্ধ ও গুণগত মানও পরিবর্তিত হতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে বর্ষার পুরো মৌসুমেই রান্নাঘরের খাবার ভালো রাখা সম্ভব।
চিনি ও লবণ আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন
বর্ষায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় চিনি ও লবণ সংরক্ষণে। বাতাসের আর্দ্রতা শোষণ করে চিনি দ্রুত দলা পাকিয়ে যায়, আর লবণ গলে ভেজা হয়ে পড়ে। তাই এগুলো সবসময় বায়ুরোধী বা এয়ারটাইট পাত্রে রাখা উচিত। খাবার তোলার সময় অবশ্যই শুকনো চামচ ব্যবহার করতে হবে। ভেজা হাত বা ভেজা চামচ ব্যবহার করলে আর্দ্রতা আরও দ্রুত জমে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
মসলা সংরক্ষণে বাড়তি সতর্কতা জরুরি
হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরা বা অন্যান্য গুঁড়ো মসলা আর্দ্র পরিবেশে খুব দ্রুত দলা পাকাতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় থাকলে ছত্রাকও জন্মাতে পারে। তাই প্রতিটি মসলা আলাদা বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করা ভালো। রান্নার সময় ভেজা চামচ ব্যবহার না করা এবং কৌটার ঢাকনা ব্যবহারের পর সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়ার অভ্যাস করলে মসলা দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
বেসন ও সুজি শুকনো জায়গায় রাখুন
প্যাকেট খোলার পর বেসন ও সুজি অনেকেই আগের প্যাকেটেই রেখে দেন। এতে সহজেই বাতাসের আর্দ্রতা ঢুকে খাবারের গন্ধ ও স্বাদ নষ্ট হতে পারে। তাই প্যাকেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই এগুলো পরিষ্কার বায়ুরোধী পাত্রে ভরে ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত। মাঝে মাঝে পাত্র খুলে খাবারের গন্ধ বা রঙে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করে দেখা ভালো।
আরও পড়ুন-সুস্থ থাকতে দিনে কতবার খাওয়া উচিত? জেনে নিন
বিস্কুট ও স্ন্যাকস সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন
বর্ষাকালে বিস্কুট, চিপস বা অন্যান্য শুকনো স্ন্যাকস খুব দ্রুত নরম হয়ে যায়। খোলা প্যাকেটের ভেতরে বাতাস ঢুকে পড়লে মুচমুচে ভাব আর থাকে না। তাই প্যাকেট খোলার পর শক্ত ক্লিপ দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখুন। আরও ভালো ফলের জন্য এগুলো বায়ুরোধী কৌটায় সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে স্বাদ ও গুণগত মান দীর্ঘদিন বজায় থাকবে।
রান্নাঘর সবসময় শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন
শুধু খাবার সংরক্ষণ করলেই হবে না, রান্নাঘরের পরিবেশও আর্দ্রতামুক্ত রাখা জরুরি। নিয়মিত জানালা খুলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন। স্যাঁতসেঁতে স্থান দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন এবং রান্নাঘরের কেবিনেট বা তাক নিয়মিত পরিষ্কার করুন। কোথাও ছত্রাক বা দুর্গন্ধ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। এতে শুধু খাবারই নয়, পুরো রান্নাঘর স্বাস্থ্যসম্মত থাকবে।
শেষ কথা
বর্ষাকালে রান্নাঘরের খাবার ভালো রাখতে খুব বেশি খরচের প্রয়োজন নেই। শুধু বায়ুরোধী পাত্র ব্যবহার, শুকনো চামচ দিয়ে খাবার তোলা এবং আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করার মতো কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই অধিকাংশ শুকনো খাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব। এতে খাবারের অপচয় কমবে, পাশাপাশি পরিবারের স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!