সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন, বেসরকারি ক্লিনিকে মালিকানা (শেয়ার) রাখা এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০ জন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অভিযুক্তদের মধ্যে আটজন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে কর্মরত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের শৃঙ্খলা শাখা-২ থেকে গত ৫ জুলাই পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুসারে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের পক্ষে তথ্য পাওয়া যাওয়ায় তাদের কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা এবং অফিস চলাকালে বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্তদের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্তসহ উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে শহরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার থাকার অভিযোগে ছয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তারা হলেন— ডা. রাফিজা নাসরিন, ডা. মো. আব্দুল মজিদ, ডা. মো. ইসমাইল হোসেন, ডা. মো. রেজাউল করিম, ডা. মুনিরা খাতুন, ডা. মো. আজহারুল ইসলাম

সিটি ক্লিনিকে শেয়ার থাকা এবং সরকারি কর্মঘণ্টায় সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সামছুল আলম রাশেদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগে ডা. রুমালি খাতুন ও ডা. দিলরুবা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারি দায়িত্ব পালন না করে অফিস সময়ে অ্যাপোলো হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অভিযোগে ডা. মো. ইনজামাম-উল হককে শাস্তিমূলকভাবে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়েছে।

গত ২৯ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চিকিৎসকদের অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পান জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। পরে অভিযোগটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাহবুব আলম জানান, হাসপাতালের আটজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে হাতেনাতে ধরার পর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনিয়মের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!