বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন খুব বেশি দেখা যায় না। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা তখন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ঝড়েই বদলে যায় পুরো ম্যাচের গল্প। শেষ পর্যন্ত মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে করা সেই গোলে প্রথম ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা।
এর মাত্র চার মিনিট পর সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বক্সে নিকোলাস তালিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু মেসির নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেয়ার। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির চতুর্থ পেনাল্টি মিস এবং একই আসরে দ্বিতীয়বার স্পটকিক থেকে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, মেসির ফ্রি-কিক ও হুলিয়ান আলভারেজের শট—সবই ব্যর্থ হয় গোলরক্ষক কিংবা পোস্টের বাধায়।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মিসর। ৫৮ মিনিটে জিকোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হলেও ৬৭ মিনিটে আর ভুল করেনি তারা। মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে হাইসেম হাসান বল বাড়িয়ে দিলে জিকো সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আর্জেন্টিনার সামনে তখন বিদায়ের শঙ্কা। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
৭৯ মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। এরপর মাত্র চার মিনিটের কিছু বেশি সময় পর মন্তিয়েলের পাস থেকে বক্সের ভেতর প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তাঁর ২১তম গোল।
সমতা ফেরানোর পরও থামেনি আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের আক্রমণ থেকে লাওতারো মার্তিনেজ ডান দিক দিয়ে বল বাড়িয়ে দেন এনজো ফার্নান্দেজের উদ্দেশে। নিখুঁত হেডে জালে বল পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। অন্যদিকে বিশ্বকাপের বড় এক অঘটনের স্বপ্ন দেখেও হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে মিসর।
মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে তিন গোল করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়ে আর্জেন্টিনা আবারও প্রমাণ করল, বড় দলগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!