প্রায় এক দশক ধরে নিজেকে চক্ষু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ চিকিৎসক না হয়েও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আর্থিক সুবিধা আদায় করতেন।

উপজেলা সদরের নূরজাহান শপিংমলে অবস্থিত হাজী মুখলেছুর রহমান চক্ষুসেবা কেন্দ্র ও চশমা ঘরে অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেকে চক্ষু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এবং কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রোগী দেখে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি রোগীদের বিভিন্ন চক্ষু হাসপাতালে অপারেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থও আদায় করতেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা কিংবা ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর নিবন্ধন নম্বর যাচাই করা উচিত। এতে ভুয়া চিকিৎসকের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

এদিকে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধও করা হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!